ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগের জেরে তেহরানে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইরান। যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে কথিত নিরাপত্তা-ঘটনার সঙ্গে ইরানকে জড়িয়ে দেওয়া অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এসব দাবির পক্ষে প্রমাণ চেয়েছে দেশটি। প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তেহরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) তেহরানে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হুগো শর্টারকে তলব করেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পশ্চিম ইউরোপবিষয়ক মহাপরিচালক আলিরেজা ইউসেফি।
এ সময় ইউসেফি ইরানের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সরকারের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, অন্যের ওপর দায় চাপিয়ে এবং প্রমাণহীন অভিযোগ তুলে ব্রিটিশ কর্মকর্তারা তাঁদের জবাবদিহি ও আন্তর্জাতিক দায়িত্ব এড়াতে পারেন না।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার অভিযোগ, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনে অংশগ্রহণ এবং দীর্ঘদিন ধরে ইরানবিরোধী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাজ্যকে জবাব দিতে হবে।
ইউসেফি ব্রিটিশ সরকারের কর্মকাণ্ডকে ইরানবিরোধী প্রচারণার অংশ হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁর দাবি, এ ধরনের আচরণ যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক আইনগত বাধ্যবাধকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের কথিত নিরাপত্তা-ঘটনা নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথি ও প্রমাণ দ্রুত প্রকাশের জন্য লন্ডনের প্রতি আহ্বান জানান ইউসেফি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাজ্য প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে ইরান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। এর ফলে যে পরিস্থিতি তৈরি হবে, তার দায় ব্রিটিশ সরকারকেই বহন করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জবাবে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হুগো শর্টার জানান, তিনি ইরানের বক্তব্য ও অবস্থান নিজ দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেবেন।
ইরানের অভিযোগ, ‘ইরানবিরোধী প্রচারণার অপচেষ্টা’
তাসনিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার রাতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের কথিত নিরাপত্তা-ঘটনা নিয়ে ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের অভিযোগের নিন্দা জানায়।
বিবৃতিতে অভিযোগগুলোকে ইরানবিরোধী প্রচারণা চালানো এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধে যুক্তরাজ্যের ভূমিকার দায় এড়ানোর ‘জঘন্য ষড়যন্ত্র’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
তবে আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে ঠিক কী ধরনের নিরাপত্তা-ঘটনা ঘটেছে, ব্রিটিশ কর্মকর্তারা ইরানের বিরুদ্ধে কী নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন কিংবা যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা কী—তাসনিমের প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এ বিষয়ে ইরানের বক্তব্য ও ব্রিটিশ পক্ষের অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করার জন্য আরও তথ্য প্রয়োজন।
সূত্র: তাসনিম নিউজ।