আল্লাহ, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে গণপিটুনি, যুবকের মৃত্যু

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম

সাতক্ষীরার দেবহাটায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আল্লাহ, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.), পবিত্র কোরআন ও সাহাবিদের নিয়ে কটূক্তিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে গণপিটুনির শিকার ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত শামীম দেবহাটা উপজেলার বড়শান্তা গ্রামের মৃত শামসুর রহমানের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে শামীমের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাঁর কিছু কথোপকথন ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে কয়েকজন ব্যক্তি শামীমের বাড়িতে যান। এ সময় তিনি বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। পরে তাঁর ভাইয়েরা তাঁকে উদ্ধার করে কুলিয়ার সবুর ডাক্তারের চেম্বারে ভর্তি করেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পারুলিয়া ও কুলিয়া এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন কুলিয়ার ওই চেম্বারে গিয়ে শামীমকে মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে তাঁকে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানেও দ্বিতীয় দফায় হামলার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে শামীমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পুলিশ পাহারায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে স্থানীয় লোকজন শামীমকে গণপিটুনি দেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরায় পাঠানো হয়। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে দেবহাটা থানার ডিউটি অফিসার এএসআই ইব্রাহিম জানান, শামীমের মরদেহ সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তসাপেক্ষ। তবে অভিযোগ সত্য হলেও কাউকে গণপিটুনি দিয়ে শাস্তি দেওয়া বা হত্যা করার অধিকার কারও নেই। এ ধরনের অভিযোগের নিষ্পত্তি হওয়া উচিত আইনগত প্রক্রিয়ায়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এখন গুরুত্বপূর্ণ।

এমএজেড
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত