ইরানে ইসরায়েলের পরিকল্পিত হামলা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প থামিয়ে দিয়েছিলেন, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর এমন প্রতিবেদন অস্বীকার করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরানে হামলার ইসরায়েলি পরিকল্পনায় ট্রাম্প বাধা দিয়েছিলেন। তবে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ৭-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু দাবি করেন, প্রতিবেদনটির তথ্য সঠিক নয়।
তিনি বলেন,'এই তথ্য সত্য নয়। তবে পক্ষপাতদুষ্ট এই প্রতিবেদনের সংশোধন নিয়ে আমি বিস্তারিত বলতে চাই না।'
সাক্ষাৎকারে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নেতানিয়াহু দাবি করেন, দেশটি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে বর্তমান শাসনব্যবস্থা টিকে থাকলে ইরান আবারও শক্তি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নেতানিয়াহু বলেন, 'তারা পঙ্গু হয়ে পড়েছে। তারা নতজানু। কিন্তু এই শাসনব্যবস্থা যত দিন টিকে থাকবে, তত দিন তারা আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে।'
ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটানোই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান বলে দাবি করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'এটি শেষ হয়েছে, তা নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় হলো এই শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো।'
এ লক্ষ্যে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এবং সামরিক বাহিনীকে (আইডিএফ) নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান নেতানিয়াহু। তার ভাষ্য, 'আমরা তাদের পতন ঘটাব।'
ইরানে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে ট্রাম্পের ভূমিকা সম্পর্কে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর প্রতিবেদন এবং নেতানিয়াহুর অস্বীকার, দুই দেশের সামরিক ও কৌশলগত সমন্বয় নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে প্রতিবেদনটির বিস্তারিত তথ্য এবং নেতানিয়াহুর বক্তব্যের বাইরে ট্রাম্প প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখানে উল্লেখ করা হয়নি।
নেতানিয়াহুর বক্তব্য ইরানের শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছে। তবে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইসরায়েল কী পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি।