ইয়েমেনে সামরিক সমাধানের সম্ভাবনা ক্ষীণ

ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের সামরিক সমাধানের আপাতত কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন সামরিক ও কৌশলগত বিশেষজ্ঞ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আল-দাহাব। তাঁর মতে, বিমানবন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে হুথিদের হামলার উদ্দেশ্য শুধু সামরিক ক্ষয়ক্ষতি ঘটানো নয়; বরং সংঘাতকে রাজনৈতিক পরিসরে নিয়ে গিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।

আল-জাজিরাকে দেওয়া বক্তব্যে আল-দাহাব বলেন, হুথিদের হামলার মাধ্যমে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের এডেন ও হাদরামাউত অঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করা এবং দেশটির পশ্চিম উপকূলীয় এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করাও তাদের লক্ষ্য হতে পারে।

আল-দাহাবের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার মাধ্যমে হুথিরা প্রতিপক্ষের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়াতে চাইছে। এর ফলে সংঘাতের প্রভাব সামরিক অবস্থানের বাইরে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তবে এডেন ও হাদরামাউতকে বিচ্ছিন্ন করা কিংবা পশ্চিম উপকূলে নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণের বিষয়গুলো বিশেষজ্ঞের বিশ্লেষণ; এগুলোকে হুথিদের ঘোষিত উদ্দেশ্য হিসেবে নিশ্চিত করার মতো অতিরিক্ত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

আল-দাহাবের মতে, ইয়েমেনে স্থলযুদ্ধ আরও বিস্তৃত হলে তা দ্রুত কোনো পক্ষের নির্ণায়ক বিজয় এনে দেওয়ার বদলে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। এ পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি আঘাত ও সামরিক প্রতিরোধের ভারসাম্য তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অর্থাৎ, লড়াইয়ের পরিধি বাড়লেও স্বল্প সময়ে সংঘাতের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষে সামরিক ও অর্থনৈতিক ব্যয় বাড়তে পারে এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথ আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

ইয়েমেনের সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান, সামরিক তৎপরতা এবং আলোচনায় অগ্রগতির ওপর। আপাতত সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান আসবে—এমন ইঙ্গিত দেখছেন না আল-দাহাব।