মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টার পর প্রথমবার জনসমক্ষে ক্রিস্টা পাইক

যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টার পরও শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণায় দিন কাটছে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ক্রিস্টা পাইকের। গত সেপ্টেম্বরে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হলেও দুটি ইনজেকশন প্রয়োগের পরও তিনি বেঁচে যান। ওই ঘটনার পর এই প্রথম জনসমক্ষে নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথা জানালেন ৫০ বছর বয়সী এই নারী।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার আইনজীবীদের প্রকাশ করা এক বিবৃতিতে পাইক বলেন, ওই রাতের পর থেকে এমন কোনো মুহূর্ত আসেনি, যখন তিনি ব্যথামুক্ত ছিলেন। তার ভাষায়, শরীর, হাত ও বাহুতে ব্যথা রয়েছে। গলাতেও যন্ত্রণা অনুভব করছেন তিনি। এখনো কথা বলতে কষ্ট হয়। শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিক ও আত্মিক যন্ত্রণাও তাকে ভোগাচ্ছে।

দুটি প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পর পাইকের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। তাকে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। গত মাসের শেষ দিকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়। গত ৩০ বছর ধরে তিনি ওই কারাগারেই বন্দি রয়েছেন।

পাইকের আইনজীবীরা এর আগে জানিয়েছিলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টার পর তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন। তার দুই বাহুতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ফোলা দেখা দেয় এবং খাবার বা পানি গিলতেও সমস্যা হচ্ছিল। চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলেও পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেননি তিনি।

শুক্রবারের বিবৃতিতে পাইক বলেন, তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং নিজের শারীরিক শক্তি ফিরে পাচ্ছেন বলে মনে করছেন। তবে ধীরে ধীরে সেরে ওঠা আর পুরোপুরি ভালো থাকা এক বিষয় নয়।

১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যা করার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় পাইককে। ঘটনার সময় তার বয়স ছিল ১৮ বছর। স্বল্প আয়ের তরুণদের জন্য আয়োজিত একটি কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ শিবিরে স্লেমারের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল পাইক ও তার তৎকালীন প্রেমিক টাডারিল শিপের। পরে তারা দুজন মিলে স্লেমারকে মারধর ও নির্যাতনের পর হত্যা করেন।

এ ঘটনায় শিপকেও অভিযুক্ত করা হয়েছিল। তবে হত্যাকাণ্ডের সময় তার বয়স আইন অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার মতো না হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি। তিনি এখনো কারাগারে রয়েছেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি হিসেবে পাইককেই একমাত্র বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি