ইরানে নতুন করে হামলার তাৎক্ষণিক কোনো পরিকল্পনা নেই যুক্তরাষ্ট্রের। তবে প্রয়োজন হলে সামরিক পদক্ষেপ নিতে মার্কিন বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, হামলার হয়তো কোনো প্রয়োজনই নাও হতে পারে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে (এফটি) টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। ইরানের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থায় ওয়াশিংটনের অবস্থানকে ‘চমৎকার পরিস্থিতি’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘আমরা যা চাই, প্রায় সবই পাচ্ছি।’
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বক্তব্যে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ইরানে হামলার সম্ভাবনার ইঙ্গিত ছিল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি প্রস্তুত, আমরাও প্রস্তুত। প্রয়োজন হলে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় আছি। তবে এর কোনো কারণ নাও থাকতে পারে।’
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের বর্তমান পরিস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনুকূল দাবি করে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধের আগের তুলনায় এখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেশি তেল পরিবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ দেশটির অর্থনীতির ক্ষতি করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্পের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র আসলে ইরানের সঙ্গে ‘সত্যিকার অর্থে’ যুদ্ধ করছে না। তিনি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ কিংবা প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান সংঘাতের তুলনা চলে না।
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়েও তেহরানের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। ওই মজুতকে তিনি ‘পারমাণবিক ধুলো’ বলে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প বলেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত শত শত টন পাথরের নিচে চাপা পড়ে থাকলেও বিষয়টি নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন। তবে এ বিষয়ে সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা বা পরবর্তী পদক্ষেপের বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি তিনি।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতিও বজায় রাখছে ওয়াশিংটন।
কূটনীতি নাকি নতুন সামরিক অভিযান?
ট্রাম্পের বক্তব্যে আপাতত দুটি পথই খোলা রাখার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। একদিকে তিনি বলছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি পাচ্ছে। অন্যদিকে প্রয়োজন হলে হামলার প্রস্তুতি থাকার কথাও স্পষ্ট করছেন।
এর আগে অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানে নতুন করে বোমা হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিতে তিনি তাড়াহুড়ো করছেন না। কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার খসড়া নিয়ে আলোচনার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
তবে আলোচনায় অগ্রগতির দাবি থাকলেও দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে—এমন কোনো ঘোষণা নেই। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, ইরানের বন্দর অবরোধ, নিষেধাজ্ঞা এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ—এসব বিষয় এখনো আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে ইরানে তাৎক্ষণিক হামলার সম্ভাবনা নাকচ না করলেও আপাতত সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজন দেখছেন না বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
সূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস, রয়টার্স ও অ্যাক্সিওস।