মধ্যপ্রাচ্যে আকাশপথে ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অনুরোধে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রক্ষায় একদল অভিজ্ঞ ড্রোন বিশেষজ্ঞ এবং ‘ড্রোন ইন্টারসেপ্টর’ পাঠিয়েছে ইউক্রেন।
সোমবার (৯ মার্চ) নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিজেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি প্রকাশ করেছেন।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই বিশেষ সহায়তার অনুরোধ জানানো হয়। এর মাত্র একদিন পরেই, অর্থাৎ শুক্রবার (৬ মার্চ) ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞদের দলটি মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে গত চার বছর ধরে ইরানি ‘শাহেদ’ ড্রোনসহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেন যে অনন্য রণকৌশল অর্জন করেছে, তা এখন মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষায় সরাসরি কাজে লাগানো হচ্ছে।
নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকের পর জেলেনস্কি স্পষ্ট করেন যে, এই পদক্ষেপটি কেবল একতরফা নয়। ইউক্রেন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যন্ত ব্যয়বহুল পিএসি-৩ (PAC-3) আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের সংকটে ভুগছে। জেলেনস্কির প্রস্তাব হলো- ইউক্রেনীয় সস্তা ও কার্যকর ড্রোন ইন্টারসেপ্টর প্রযুক্তির বিনিময়ে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলো যেন তাদের মজুত থাকা আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের একটি অংশ ইউক্রেনকে দেয়। তিনি এটিকে ‘উভয় পক্ষের জন্য বড় সুযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইউক্রেন আশঙ্কা করছে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ শুরু হলে আমেরিকার সামরিক সরবরাহ অন্যদিকে ডাইভার্ট হয়ে যেতে পারে। শীতকালে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে বিলম্বের কারণে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও বেসামরিক অবকাঠামো রুশ হামলার মুখে অরক্ষিত হয়ে পড়েছিল। তাই আকাশ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জেলেনস্কি এখন থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে নিজের সক্ষমতা প্রদর্শন করতে চাইছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গত বছরের ডিসেম্বরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠকের পর এই পদক্ষেপ কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের সামরিক সহযোগিতাকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেল। জেলেনস্কির মতে, তার বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবেন এবং কীভাবে ড্রোন হামলা প্রতিহত করা যায় সে বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন।
তবে ইউক্রেনের এই সহায়তার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা জর্ডান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড, রয়টার্স