ডেনমার্কের সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেন ফ্রেডেরিকসেন

ডেনমার্কের সাধারণ নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের নেতৃত্বাধীন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা সবচেয়ে বড় দল হিসেবে টিকে থাকলেও আগের তুলনায় জনসমর্থন হারিয়েছে বড় ব্যবধানে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন সরকার গঠনে ‘কিংমেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন অভিজ্ঞ রাজনীতিক লার্স লোকে রাসমুসেন।

অফিসিয়াল ফলাফলে দেখা গেছে, ফ্রেডেরিকসেনের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা ২১.৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে, যা ২০২২ সালের নির্বাচনে ছিল ২৭.৫ শতাংশ। ডেনমার্কের ১৭৯ আসনের পার্লামেন্টে (ফোকটিং) বাম বা ডান—কোনো জোটই সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার অর্জন করতে পারেনি। এই ত্রিশঙ্কু অবস্থায় রাসমুসেনের মধ্যপন্থী ‘মডারেট’ পার্টি ১৪টি আসন নিয়ে সরকার গঠনের চাবিকাঠি হাতে নিয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারণায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে ডেনমার্কের জাতীয় সংকট ছায়া ফেললেও, ভোটাররা মূলত জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, পেনশন এবং সম্পদ করের মতো অভ্যন্তরীণ ইস্যুগুলোকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ফ্রেডেরিকসেন মনে করেছিলেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপীয় মিত্রদের ঐক্যবদ্ধ করে তার আপসহীন ভাবমূর্তি তাকে তৃতীয় মেয়াদে বড় জয় এনে দেবে। কিন্তু ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপে ভোটারদের মন গলেনি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন সব পক্ষকে বিভেদ ভুলে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘৮০০ কোটি মানুষের এই পৃথিবীতে ডেনমার্ক মাত্র ৬০ লাখের একটি ছোট্ট দেশ। একদিকে ইরান যুদ্ধ, অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ—এই উত্তাল সময়ে আমাদের একতাবদ্ধ থাকা জরুরি।’

অন্যদিকে মেটে ফ্রেডেরিকসেন জানিয়েছেন, তিনি দায়িত্ব চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। তার মতে, বিশ্ব এখন অশান্ত এবং ডেনমার্কের এই মুহূর্তে একটি স্থিতিশীল ও অভিজ্ঞ সরকার প্রয়োজন। তবে রক্ষণশীল জোটের নেতা ট্রোয়েলস লুন্ড পোলসেন জানিয়েছেন, তারা আর ফ্রেডেরিকসেনের দলের সাথে জোট করতে আগ্রহী নন।

ডেনমার্কের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থার কারণে এখন সরকার গঠনে দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ ধরে দরকষাকষি ও আলোচনার প্রয়োজন হতে পারে। লার্স রাসমুসেন কার দিকে সমর্থন বাড়ান, তার ওপরই নির্ভর করছে মেটে ফ্রেডেরিকসেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টিকে থাকা।