মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা একটি সরাসরি বৈঠকে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অত্যন্ত গোপনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকটি প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) জার্মানির রাষ্ট্রীয় রেডিও ‘ডয়েচলান্ডফুঙ্ক’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
ওয়াডেফুল বলেন, ‘তেহরান ও ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ সম্পন্ন করেছে। এখন তারা সামনাসামনি আলোচনার টেবিলে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমার বিশ্বাস, খুব শিগগিরই পাকিস্তানে এই ঐতিহাসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।’
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে দুই দেশ ইতোমধ্যে লিখিতভাবে নিজেদের প্রাথমিক অবস্থান বিনিময় করেছে। আজ ফ্রান্সে অনুষ্ঠিতব্য ‘জি-৭’ (G7) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেন।
বার্তাসংস্থা এএফপি ও রয়টার্স জানিয়েছে, এই শান্তি আলোচনায় পাকিস্তান প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। ইতিমধ্যে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে একটি ১৫-দফা শান্তি প্রস্তাব পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানে পাঠানো হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইরান এবং সৌদি আরবের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পাকিস্তানের শক্তিশালী সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত। তিনি গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও টেলিফোনে কথা বলেছেন বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা নিরসনে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল করতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। তবে দুই দেশের অনড় অবস্থান ও বিপরীতমুখী প্রস্তাবগুলো আলোচনার টেবিলে কতটুকু ফলপ্রসূ হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি, রয়টার্স