ফিলিস্তিন ও লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে তীব্র বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন তুরস্ক ও ইসরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্ব, যা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেছেন, ফিলিস্তিনে চলমান পরিস্থিতি ও লেবাননে হামলা বন্ধে প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে আঙ্কারা। তিনি ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে 'বর্বরতা' হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন, অতীতে যেমন কারাবাখ ও লিবিয়ায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছিল, তেমন পদক্ষেপ ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও নেওয়া হতে পারে।
ইস্তাম্বুলে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন। এরদোয়ান দাবি করেন, যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও লেবাননে ব্যাপক হামলায় বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং নিরীহ বেসামরিক নাগরিকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি আরও কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনে চলমান পরিস্থিতি থামাতে তুরস্ককে শক্তিশালী অবস্থানে যেতে হবে। তার ভাষায়, 'শক্তিশালী হওয়া ছাড়া কোনো বাধা নেই।'
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা এরদোয়ানকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। ইসরায়েলি নেতারা তাকে 'কাগুজে বাঘ' বলে আখ্যা দেন এবং তার বক্তব্যকে ভণ্ডামি হিসেবে উল্লেখ করেন।
এর জবাবে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নেতানিয়াহুকে 'আমাদের সময়ের হিটলার' বলে আখ্যা দেয়, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
এই উত্তেজনার পেছনে আইনি ও রাজনৈতিক পদক্ষেপও যুক্ত হয়েছে। গত ১০ এপ্রিল তুরস্কের একটি আদালত ইসরায়েলের শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে, যার মধ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রীও রয়েছেন।