রাজধানী কিয়েভে স্মরণকালের ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। শনিবার (২৩ মে) রাত থেকে রোববার (২৪ মে) ভোর পর্যন্ত চলা এই নিরবচ্ছিন্ন হামলায় কিয়েভের একাধিক আবাসিক ভবন, স্কুল, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং গুদামঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনীয় প্রশাসনের দাবি, এই হামলায় অন্তত ৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১০ জন।
কিয়েভ সামরিক প্রশাসনের প্রধান টাইমুর কাচেঙ্কো এই আক্রমণকে ‘ম্যাস ব্যালিস্টিক মিসাইল অ্যাটাক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শেভচেনকিভস্কি, দনিপ্রোভস্কি এবং পোডিলস্কি জেলাসহ রাজধানীর অন্তত ৯টি এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শেভচেনকিভস্কি জেলার একটি স্কুল ভবনেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, যেখানে সে সময় সাধারণ মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। বিস্ফোরণের পর স্কুলটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলাকে ‘প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে দাবি করেছে। মস্কোর অভিযোগ, এর আগের দিন ইউক্রেনীয় বাহিনী অধিকৃত লুহানস্ক অঞ্চলের স্টারোব্লিসকের একটি কলেজে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল, যাতে শিশুসহ ১৮ জন নিহত হয়। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একে ‘জঙ্গি হামলা’ আখ্যা দিয়ে কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তবে ইউক্রেন এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা কেবল রাশিয়ার সামরিক লক্ষ্যবস্তু, বিশেষ করে উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি পরিচালনাকারী ‘রুবিকন’ ইউনিটের ওপর নজরদারি ও হামলা চালায়।
হামলার কয়েক দিন আগেই প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পশ্চিমি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বড় ধরনের বিমান হামলার সতর্কতা দিয়েছিলেন। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনী আশঙ্কা করেছিল যে, রাশিয়া তাদের নতুন ‘ওরেশনিক’ হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। তবে রোববারের হামলায় এই নির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বর্তমানে কিয়েভের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ফায়ার সার্ভিস ও এমার্জেন্সি রেসপন্স টিমের উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।