বেন-গভিরের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ইতালির, তোপের মুখে

গাজা অভিমুখী ফ্লোটিলা বা সাহায্যকারী বহরের কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের জেরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র তোপের মুখে পড়েছেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। সর্বশেষ এই ইস্যুতে বেন-গভিরের করা একটি ‘দ্বিধাগ্রস্ত’ ও আপত্তিকর মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি। একই সঙ্গে বিতর্কিত এই ইসরায়েলি মন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ওপর চাপ প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছে রোম।

গত মাসে গাজায় ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙার চেষ্টাকালে আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে সাইপ্রাস উপকূলের কাছে কয়েক ডজন দেশের ৪৩০ জনেরও বেশি আন্দোলনকর্মীকে আটক করে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। সে সময় আশদোদ বন্দরে মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে থাকা এবং পেছন দিকে হাত বাঁধা আন্দোলনকর্মীদের লক্ষ্য করে মন্ত্রী বেন-গভিরের উপহাস ও দুর্ব্যবহারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়।

আটককৃতদের মধ্যে ইতালির নাগরিকও ছিলেন। ইতালীয় সংবাদ সংস্থা ‘আনসা’র তথ্যমতে, নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর কথিত নির্যাতন ও অপহরণের অভিযোগে বেন-গভিরের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে ইতালির কর্তৃপক্ষ। এর আগে গত সপ্তাহে ফ্রান্সও এই ঘটনার প্রেক্ষিতে যুদ্ধাপরাধ ও নির্যাতনের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে।

এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ইতালির তদন্ত শুরুর খবর পেয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান বেন-গভির। ইতালির ভৌগোলিক মানচিত্রের আকৃতিকে কটাক্ষ করে তিনি মন্তব্য করেন, “বুটের দেশটি (ইতালি) এখন ফ্লিপ-ফ্লপের (চটি জুতো) দেশে পরিণত হয়েছে।”

ইসরায়েলি মন্ত্রীর এমন মন্তব্যে ক্ষোভে ফেটে পড়ে রোম। গত মঙ্গলবার ইতালির সিনেটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি বেন-গভিরের মন্তব্যকে “অগ্রহণযোগ্য” হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “এগুলো অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য কথা যা আমরা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করি। একজন মন্ত্রীর মুখে এমন কথা শোভা পায় না। বেন-গভিরের এই বক্তব্য মূলত ভদ্রলোকের রাজনৈতিক ও নৈতিক স্তরকেই প্রকাশ করে।”

এই ঘটনার পর বেন-গভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতর তৎপরতা শুরু হয়েছে। যদিও ইইউ কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেননি, তবে তাজানি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, রোম এই নিষেধাজ্ঞার জন্য জোটের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে। এর আগে গত মাসে অধিকৃত পশ্চিম তীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী সহিংস ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর প্রথমবারের মতো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ইইউ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত এপ্রিলে ইতালির একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত এবং চলমান এই উত্তেজনার পরও ইউরোপে ইসরায়েলের অন্যতম শক্তিশালী মিত্র হিসেবে রয়ে গেছে রোম। জার্মানি ও ইতালির জোরালো অবস্থানের কারণেই মূলত ইইউ ও ইসরায়েলের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত করার প্রচেষ্টাগুলো বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন হলো ইসরায়েলের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার; ২০২৫ সাল নাগাদ বিশ্বের সঙ্গে ইসরায়েলের মোট পণ্য বাণিজ্যের ৩০ শতাংশেরও বেশি ইইউ-এর মাধ্যমেই সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বেন-গভিরের সাম্প্রতিক এই উদ্ধত আচরণ ও কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত মন্তব্য দুই পক্ষের মধ্যকার সম্পর্কে নতুন করে বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা