উপসাগরীয় অঞ্চলেই থাকছে ফরাসি রণতরী চার্লস ডি গল

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি নিয়ে আশাবাদ বাড়লেও পারস্য উপসাগর অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি কমানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ফ্রান্স। দেশটির বিমানবাহী রণতরী চার্লস ডি গল আপাতত অঞ্চলেই অবস্থান করবে বলে জানিয়েছে ফরাসি সেনাবাহিনী।

রণতরীটি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নির্ধারিত মেরামতের জন্য ফ্রান্সে ফিরে যেতে পারে, এমন খবর ছড়িয়ে পড়লেও তা নাকচ করে দিয়েছেন ফরাসি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র গিয়োম ভারনে।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, 'পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চার্লস ডি গল এই অঞ্চলে অবস্থান করবে। বর্তমানে এর প্রত্যাবর্তন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।'

তিনি জানান, রণতরীর কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি বিবেচনায় থাকলেও সামরিক পরিকল্পনা নির্ধারণে সেটিই একমাত্র বিষয় নয়। আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং চলমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জও সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ভারনে আরও বলেন, আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে ফ্রান্স এখনো দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে চার্লস ডি গল এবং এর সহযোগী যুদ্ধজাহাজগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছায়। সে সময় ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে একটি সম্ভাব্য ‘নিরপেক্ষ’ সামুদ্রিক মিশনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি ঘিরে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় পশ্চিমা দেশগুলো সেখানে নিজেদের উপস্থিতি জোরদার করেছে।

এদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতা আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত মিললেও উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। ফলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ফ্রান্স আপাতত তাদের প্রধান বিমানবাহী রণতরীকে সেখানেই রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা