ইউরোপজুড়ে চলমান রেকর্ড তাপপ্রবাহের মধ্যে নদী, হ্রদ ও জলাশয়ে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরম থেকে স্বস্তি পেতে পানিতে নামা তরুণদের মধ্যেই এই মৃত্যুর সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে।
ফ্রান্সে চলতি সপ্তাহেই অন্তত ৪২ জন পানিতে ডুবে মারা গেছেন। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার মানুষ নদী, হ্রদ ও অন্যান্য জলাশয়ের দিকে ছুটে গিয়েছিলেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানান, নিহতদের অধিকাংশই তরুণ এবং এ ঘটনাকে তিনি ‘মর্মান্তিক এক দুর্যোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তবে এটি নতুন কোনো প্রবণতা নয়। ফ্রান্সের জনস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে দেশটিতে ১ হাজার ৪১৮টি পানিতে ডুবে যাওয়ার ঘটনা রেকর্ড করা হয়, যা আগের বছরের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি। ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোরদের মৃত্যুর সংখ্যা ওই সময়ে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছিল।
একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে যুক্তরাজ্যেও। মে মাসের তাপপ্রবাহ চলাকালে খোলা জলাশয়ে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই ছিল শিশু ও কিশোর।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রচণ্ড গরম থাকলেও নদী বা হ্রদের পানি অনেক সময় বিপজ্জনকভাবে ঠান্ডা থাকে। এতে ‘ঠান্ডা পানির ধাক্কা’ নামে পরিচিত শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। হঠাৎ ঠান্ডা পানিতে নামলে শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হয়, শরীর আতঙ্কিত প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং দক্ষ সাঁতারুরাও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিপদে পড়তে পারেন।
একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিশু-কিশোররা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। কারণ তাদের অনেকের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ বা নিরাপদ বিনোদনকেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। ফলে নদী, খাল, হ্রদ কিংবা জলাধারই গরম থেকে মুক্তির একমাত্র আশ্রয় হয়ে ওঠে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইউরোপে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হয়ে উঠছে। এর সঙ্গে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনাও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: সিএনএন