প্রথমবার কর তথ্য প্রকাশ করলেন রাজা চার্লস

প্রথমবারের মতো নিজের কর পরিশোধের তথ্য প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তিনি ১ কোটি ২৯ লাখ পাউন্ড কর দিয়েছেন, যা তাকে যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ করদাতাদের একজন হিসেবে তুলে ধরেছে।

বার্ষিক রাজকীয় আর্থিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে প্রিন্স অব ওয়েলস প্রিন্স উইলিয়াম কর দিয়েছেন ৭৭ লাখ ৬০ হাজার পাউন্ড। স্বচ্ছতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে রাজপরিবারের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ব্রিটিশ সম্রাট স্বেচ্ছায় নিজের কর পরিশোধের তথ্য প্রকাশ করলেন।

বাকিংহাম প্যালেস জানিয়েছে, রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলা সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পরও বাকিংহাম প্রাসাদে স্থায়ীভাবে উঠবেন না। তারা আগের মতোই ক্ল্যারেন্স হাউসেই বসবাস করবেন। এর ফলে বাকিংহাম প্রাসাদ সাধারণ মানুষের জন্য আরও বেশি সময় উন্মুক্ত রাখা এবং সেখান থেকে আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজপরিবারের সরকারি ব্যয়ের প্রধান উৎস ‘সভারেন গ্রান্ট’ আগামী তিন বছরের মধ্যে বেড়ে প্রায় ১০ কোটি পাউন্ডে পৌঁছাবে। বর্তমানে এই অনুদানের পরিমাণ ৮ কোটি ৬৩ লাখ পাউন্ড, যার একটি বড় অংশ বাকিংহাম প্রাসাদের সংস্কারকাজে ব্যয় হচ্ছে।

রাজা চার্লসের করযোগ্য আয়ের প্রধান উৎস হলো ‘ডাচি অব ল্যাঙ্কাস্টার’ এস্টেট, যেখান থেকে সর্বশেষ অর্থবছরে তার আয় হয়েছে ২ কোটি ৫২ লাখ পাউন্ড। এছাড়া ব্যক্তিগত বিনিয়োগ, সঞ্চয় এবং বালমোরাল ও স্যান্ড্রিংহাম এস্টেট থেকেও তার আয় আসে।

অন্যদিকে প্রিন্স উইলিয়ামের আয়ের উৎস ‘ডাচি অব কর্নওয়াল’। এই এস্টেটের আয় থেকে তিনি কর পরিশোধ করেন। তার ব্যক্তিগত সচিব জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় ব্যয় বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থের ওপর সর্বোচ্চ হারে আয়কর পরিশোধ করেন প্রিন্স উইলিয়াম এবং এ ব্যয় স্বাধীনভাবে নিরীক্ষা করা হয়।

তবে কর পরিশোধের মোট অঙ্ক প্রকাশ করা হলেও কীভাবে সেই হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে, তার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। এ কারণে করনীতি বিশেষজ্ঞ ড্যান নাইডল এই তথ্যকে ‘পর্যাপ্ত স্বচ্ছ নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার ভাষ্য, কত অংশ আয়কর, কত অংশ মূলধনী মুনাফা কর এবং কী ধরনের ব্যয় ছাড় দেওয়া হয়েছে, তা জানা যায়নি।

রাজা চার্লস ও প্রিন্স উইলিয়ামের কার্যালয় জানিয়েছে, করের তথ্য প্রকাশের সিদ্ধান্ত দুজনই ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছেন। বাকিংহাম প্যালেসের ভাষ্য, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য রাজপরিবারের আর্থিক জবাবদিহি সম্পর্কে জনসাধারণের বোঝাপড়া আরও বাড়ানো।

এদিকে প্রিন্স উইলিয়াম ঘোষণা দিয়েছেন, পরিত্যক্ত ডার্টমুর কারাগার থেকে পাওয়া বছরে প্রায় ১৫ লাখ পাউন্ড ভাড়া তিনি আর ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করবেন না। এই অর্থ স্থানীয় সম্প্রদায়ের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজপরিবারের অর্থব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা এবং অধিক স্বচ্ছতার দাবির মুখেই এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সমালোচকদের একাংশের দাবি, শুধু করের অঙ্ক প্রকাশ করলেই হবে না; রাজপরিবারের বিপুল সম্পদ, ব্যয় এবং সরকারি অর্থ ব্যবহারের আরও বিস্তারিত তথ্যও জনসমক্ষে আনা উচিত। সূত্র: বিবিসি