ইউরোপজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহ ও দাবানলের প্রভাবে গ্রিসে আগুন নেভানোর অভিযানে দুটি অগ্নিনির্বাপণ হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ হয়েছে। একই সময়ে ভয়াবহ খরার কারণে দানিউব নদীর পানির স্তর বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়ায় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে হাঙ্গেরি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার (২ আগস্ট) গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের উত্তর-পশ্চিমে আত্তিকা অঞ্চলের সাথা এলাকায় দাবানল নিয়ন্ত্রণের সময় দুটি অগ্নিনির্বাপণ হেলিকপ্টারের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়।
গ্রিসের দমকল বিভাগ জানিয়েছে, একটি হেলিকপ্টারের ক্রুদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য হেলিকপ্টারটির অবস্থান শনাক্ত করা গেলেও এর আরোহীদের উদ্ধারে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছিল।
এদিকে এথেন্সের উত্তর-পশ্চিমে দাবানলে শতাধিক বাড়ি পুড়ে গেছে। করিন্থ উপসাগরসংলগ্ন পোর্তো জেরমেনো এলাকায় শুরু হওয়া আগুন প্রবল বাতাসে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভেনিজা এলাকায় পৌঁছে যায়। আগুন একটি সামরিক ফায়ারিং রেঞ্জেও ছড়িয়ে পড়ে। দমকলকর্মীরা আগুন যাতে উপকূলীয় শহর মেগারায় পৌঁছাতে না পারে, সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিস বলেন, কখনো কখনো প্রকৃতির শক্তি ও আবহাওয়ার তীব্রতা মানুষের সব পরিকল্পনা ও সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যায়।
এদিকে ফ্রান্সের জিরন্দ ও ভার অঞ্চল এবং স্পেনের কয়েকটি এলাকায় বড় দাবানল অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এলেও কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে আবার আগুন জ্বলে উঠেছে।
অন্যদিকে দীর্ঘস্থায়ী খরায় হাঙ্গেরি, সার্বিয়া ও রোমানিয়ায় দানিউব নদীর পানির উচ্চতা ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিটার মাজার জানান, নদীর পানির স্তর এতটাই কমে গেছে যে চার দশকের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো দেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ করতে হয়েছে। সামনে আরও তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
নদীর পানি কমে যাওয়ায় হাঙ্গেরিতে নৌপরিবহন ও পর্যটন খাত ব্যাহত হচ্ছে। দেশটির শতাধিক শহর ও গ্রামে পানি ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। একইভাবে সার্বিয়ায় দানিউব নদীর পানির স্তর ১৯৮৫ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ায় দেশটির বৃহত্তম জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ২০ শতাংশে নেমে এসেছে।