সুদানের দারফুরে আদালতে সেনাবাহিনীর ড্রোন হামলা, নিহত ৩৫

সুদানের পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুরে একটি ঐতিহ্যবাহী স্থানীয় আদালতে সেনাবাহিনীর ড্রোন হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লইয়ার্স।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে উত্তর দারফুর অঙ্গরাজ্যের গারা আল-জাওয়াইয়া গ্রামে এ হামলা চালানো হয়। ওই সময় স্থানীয় বিরোধ ও বিভিন্ন মামলার শুনানিতে অংশ নিতে বহু মানুষ আদালত এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন।

গ্রামটি বর্তমানে আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ড্রোন হামলায় আদালত ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় ও উপজাতীয় বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য দীর্ঘদিন ধরে এই আদালত ব্যবহৃত হয়ে আসছিল বলে জানিয়েছে ইমার্জেন্সি লইয়ার্স।

নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী এএফপিকে জানান, আদালতের কার্যক্রম একটি গাছের নিচে চলছিল এবং সেখানে স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে চারজন উপজাতীয় নেতা এবং আরএসএফের দুইজন কমান্ডার রয়েছেন।

গারা আল-জাওয়াইয়া গ্রামটি উত্তর দারফুরের কাবকাবিয়া শহরের কাছে অবস্থিত। এটি এল-ফাশের শহর থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে। এল-ফাশের ছিল দারফুরে সুদানি সেনাবাহিনীর শেষ শক্ত ঘাঁটি, যা গত বছরের অক্টোবর মাসে রক্তক্ষয়ী অভিযানের পর আরএসএফের দখলে যায়।

জাতিসংঘের তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এল-ফাশের অবরোধ ও দখলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতায় ‘গণহত্যার সুস্পষ্ট লক্ষণ’ দেখা গেছে।

এল-ফাশের দখলের পর আরএসএফ দারফুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করে। ২০০০-এর দশকের শুরুতে দারফুরে নৃশংসতার অভিযোগে অভিযুক্ত জানজাওয়িদ মিলিশিয়া থেকেই আরএসএফের উৎপত্তি।

এরপর থেকে সংঘাতে জড়িত উভয় পক্ষই ক্রমবর্ধমান হারে ড্রোন ব্যবহার করছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই ড্রোন হামলায় এক হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

গত সপ্তাহে খার্তুম ও এল-ওবেইদকে সংযুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগলো এক ভিডিও বার্তায় তার যোদ্ধাদের সম্মুখসারিতে আরও জোরালো অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কর্দোফান অঞ্চলের বৃহত্তম শহর এল-ওবেইদে ব্যাপক ড্রোন হামলা হয়েছে। পরিস্থিতিকে ‘বিপর্যয়কর’ উল্লেখ করে জাতিসংঘ সেখানে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে। সংস্থাটির আশঙ্কা, আরএসএফ শহরটি পুনরায় অবরুদ্ধ করার পাশাপাশি স্থল অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জাতিসংঘ বারবার সতর্ক করে বলেছে, এল-ওবেইদ ও বৃহত্তর কর্দোফান অঞ্চলে আরএসএফের অগ্রযাত্রা ব্যাপক গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগলো এবং তার সাবেক মিত্র সুদানি সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর মধ্যে চলমান যুদ্ধে কয়েক দশক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখো মানুষ। জাতিসংঘ এই সংঘাতকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্ষুধা ও বাস্তুচ্যুতি সংকটগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছে। 

বিভিন্ন প্রতিবেদনে সংঘাতের উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠেছে। তবে আরএসএফের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত যৌন সহিংসতা, ব্যাপক লুটপাট এবং গণহত্যাসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা।