প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ১০ শতাংশেই রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস: জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার বাড়তে থাকা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার মাত্র ৫ শতাংশ পেলেই ইউক্রেন শীতকাল পার করতে পারবে। আর ১০ শতাংশ পেলে রাশিয়ার সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার সক্ষমতা অর্জন করবে কিয়েভ।

সিএনএনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া প্রতি মাসে আগের তুলনায় দ্বিগুণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। বিপরীতে, ২০২৫ সালের তুলনায় চলতি বছর ইউক্রেনের হাতে প্যাট্রিয়টের প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমেছে প্রায় আড়াই গুণ।

তিনি বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের মাত্র ১ শতাংশ সমপরিমাণ প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনের হাতে রয়েছে। তাঁর ভাষায়, ৫ শতাংশ পেলে শীতকাল পার করে মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে; আর ১০ শতাংশ পেলে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক হামলা ঠেকিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।

জেলেনস্কি জানান, প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহ এখন তাঁর প্রতিদিনের অন্যতম প্রধান কাজ। মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে ফোনালাপ, বার্তা ও নানা ধরনের সমঝোতার মাধ্যমে তিনি অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে এসব উদ্যোগের কিছু বিষয় প্রকাশ্যে বলা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

ইউক্রেনের জন্য সংকট আরও গভীর হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইরান যুদ্ধের কারণে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় মিত্ররা বিপুলসংখ্যক প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করায় বিশ্বজুড়ে এসব অস্ত্রের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ইউক্রেনের ওপর।

জেলেনস্কি আরও বলেন, ইউক্রেনকে নিজস্ব প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের ঘোষণার বাস্তবায়ন নিয়েও এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা নির্মাতাদের কর্মকর্তারা কিয়েভে গিয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত ফল পাওয়া যায়নি।

এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইউক্রেনের সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতার কয়েকটি সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এখনো কোনো নির্দিষ্ট উদ্যোগ চূড়ান্ত বা নিশ্চিত হয়নি। সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনার প্রসঙ্গও তোলেন। তাঁর দাবি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখনই যুদ্ধ বন্ধ করতে চান না এবং তাঁকে থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও চাপ প্রয়োজন।

ইউক্রেনের ভূখণ্ডের অংশ ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনাও নাকচ করে জেলেনস্কি বলেন, শুধু ভূখণ্ড নিয়ে আলোচনা করলে সমস্যার সমাধান হবে না। যুদ্ধবিরতির পর রাশিয়া আবারও বিপুলসংখ্যক সেনা নিয়ে ইউক্রেনে হামলা চালাবে না, এমন নিরাপত্তা নিশ্চয়তাই কিয়েভের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

জেলেনস্কি আরও সতর্ক করে বলেন, পুতিন ভবিষ্যতে ন্যাটোর ঐক্য পরীক্ষা করতে জোটভুক্ত কোনো ছোট দেশ, বিশেষ করে বাল্টিক অঞ্চলের দেশকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারেন, এমন আশঙ্কার সঙ্গে তিনি পশ্চিমা কিছু মূল্যায়নেরও একমত। সূত্র: সিএনএন