ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অনুমতি দিয়েছেন ট্রাম্প: জেলেনস্কি

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৩ পিএম

ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, এমন দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সমঝোতাও হয়েছে।

জেলেনস্কি বলেন, তাদের সর্বশেষ বৈঠকে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেওয়া হবে। চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে দুই নেতা বৈঠক করেন।

ইউক্রেনের জন্য প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অনুমতি কয়েক মাস ধরে গুরুত্বপূর্ণ একটি দাবি হয়ে রয়েছে। রাশিয়ার ধারাবাহিক আকাশ হামলা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে কিয়েভ।

জুলাইয়ে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে কয়েক সপ্তাহ পর এ বিষয়ে তার অবস্থান কিছুটা নরম হয়ে যায়। জেলেনস্কির সর্বশেষ বক্তব্যের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মন্তব্য জানা যায়নি।

প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম অল্প কয়েকটি ব্যবস্থার একটি। তবে সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্ত্র সরবরাহ সংকটের কারণে বিভিন্ন দেশ নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে তৎপর হওয়ায় ইউক্রেনের জন্য প্যাট্রিয়টের সরবরাহও প্রভাবিত হয়েছে।

এদিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিয়েভের মেয়রের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দিনের বেলায় ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় এক কিশোরসহ সাতজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ৪৬ জন আহত হয়েছেন।

জেলেনস্কি এর আগে আগস্টে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, রুশ হামলা ঠেকাতে ইউক্রেনের যত প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন, তার মাত্র এক-দশমাংশ দেশটির হাতে রয়েছে। তিনি আরও বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান মজুদের ৫ শতাংশ ইউক্রেনকে শীতকালজুড়ে রুশ হামলা মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে।

এদিকে শুক্রবার জেলেনস্কি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে। বৈঠকের তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সম্ভাব্য বৈঠকস্থল হিসেবে প্রস্তাব করেছে বলেও জানান তিনি।

জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন এ বিষয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার সঙ্গে কথা বলবে। এরপর প্রায় ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট অবস্থান ও ফলাফল নিয়ে ফের আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। তবে রাশিয়া এখন পর্যন্ত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেওয়ার বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি; দেশটি শুধু এমন বৈঠক শিগগির হতে পারে বলে জানিয়েছে। সূত্র: সিএনএন

এএস
আরও পড়ুন