ইসরায়েলি সেটলার হামলা বাড়ছে, বিপদে ফিলিস্তিন

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের (সেটলার) বাড়তে থাকা হামলা বড় ধরনের ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসী তৎপরতার জন্ম দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল আভি ব্লুথ। সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন বলে জানিয়েছে চ্যানেল ১২।

চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্লুথ বৈঠকে বলেন, গত দুই বছরে ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে ‘জাতীয়তাবাদী অপরাধ’ মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে এবং পশ্চিম তীরে বড় ধরনের সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার কারণ হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বসতিস্থাপনকারীদের হামলার মতো ঘটনায় আইডিএফের মনোযোগ বারবার সরে যাচ্ছে। এর ফলে ফিলিস্তিনি সন্ত্রাস প্রতিরোধে সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এরপর নেতানিয়াহু আইডিএফের চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামিরকে জানতে চান, পশ্চিম তীরে পরিস্থিতি বিস্ফোরণ ঘটালে সেনাবাহিনী কী করবে এবং এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য তাদের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না।

জবাবে জামির বলেন, ওই বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা উপস্থাপনের জন্য তারা প্রস্তুত হয়ে আসেননি। তবে প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা পরে জানান, পশ্চিম তীরে পরিস্থিতির অবনতি হলে আইডিএফের একটি  জরুরি পরিকল্পনা রয়েছে। বৈঠকটি স্বল্প নোটিশে ডাকা হয়েছিল এবং মূলত বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়েই আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পশ্চিম তীরে বসতিস্থাপনকারীদের হামলা নিয়ে আইডিএফের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এটি অন্তত দ্বিতীয় সতর্কবার্তা। সামরিক কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, প্রায় প্রতিদিনের এসব হামলা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ফিলিস্তিনিদের পাল্টা সন্ত্রাসী তৎপরতা বাড়তে পারে।

চ্যানেল ১২-এর শুক্রবারের আরেক প্রতিবেদনে এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, সহিংসতা থামাতে ইসরায়েলের আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। ওই কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, কিছু সরকারি কর্মকর্তা উগ্রপন্থী বসতিস্থাপনকারীদের সমর্থন করায় আইন প্রয়োগ কঠিন হয়ে পড়েছে।

পশ্চিম তীরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বসতিস্থাপনকারীদের হামলা বেড়েছে। এসব ঘটনায় কখনো প্রাণহানিও ঘটছে। তবে হামলার ঘটনায় অল্পসংখ্যক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার ও অভিযুক্ত করা হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ইসরায়েলি সরকার এসব হামলা প্রশ্রয় দিচ্ছে বা উৎসাহিত করছে। কিছু ক্ষেত্রে আইডিএফের সদস্যদের হামলার সময় নিষ্ক্রিয় থাকা কিংবা সহায়তা করার অভিযোগও উঠেছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পশ্চিম তীরে সহিংসতা আরও বেড়েছে। এর বড় অংশই ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলাকে ঘিরে। পাশাপাশি ইসরায়েলিদের লক্ষ্য করে ফিলিস্তিনি হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

রোববার জর্ডান উপত্যকার আল-আওজা গ্রামের কাছে এক ইসরায়েলি ব্যক্তি ছুরিকাঘাতে মাঝারি মাত্রায় আহত হন। এ ঘটনায় ১৬ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি কিশোরকে হামলার সন্দেহে গ্রেপ্তার করেছে আইডিএফ।