জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে মিনাবের শহীদ শিশুদের স্মরণে প্রদর্শনী

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি স্কুলে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে চালানো প্রাণঘাতী মার্কিন হামলার প্রভাব তুলে ধরে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। জাতিসংঘের সদর দপ্তরের প্রধান প্রবেশপথের বাইরে প্লাস দে নাসিওঁ এলাকায় শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) শুরু হওয়া এই প্রদর্শনীতে মিনাবের নিহত শিশুদের ছবি, তাদের আঁকা ছবি, স্কুলব্যাগসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত সামগ্রী প্রদর্শন করা হচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুইজারল্যান্ডে বসবাসরত দুই ইরানি নাগরিক সমাজকর্মী এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছেন। জাতিসংঘের সদর দপ্তরের প্রধান প্রবেশপথের পাশেই প্রদর্শনীর স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই স্থানটি জেনেভার বিখ্যাত ‘ব্রোকেন চেয়ার’ ভাস্কর্যের কাছাকাছি, যা যুদ্ধ ও সহিংসতায় বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।

প্রদর্শনীটি ১৯ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে এবং ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। এতে মিনাবের স্কুলে হামলার পরের পরিস্থিতির বিভিন্ন ছবি তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি হামলায় নিহত শিশুদের আঁকা ছবি, তাদের স্কুলব্যাগ এবং হামলার পর পড়ে থাকা বিভিন্ন ব্যক্তিগত সামগ্রীও প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে।

প্রদর্শনী দেখতে কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার কর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটকেরা সেখানে যাচ্ছেন বলে ইরনার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে এমন আয়োজনের মাধ্যমে মিনাবের শিশুদের ওপর হামলার বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন আয়োজকেরা।

আয়োজকদের ভাষ্য, প্রদর্শনীতে রাখা প্রতিটি ছবি ও সামগ্রী যুদ্ধের কারণে শিশু ও বেসামরিক মানুষের জীবনে কী ধরনের পরিণতি তৈরি হয়, তার একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে। তাদের মতে, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি শুধু সংখ্যার হিসাব দিয়ে বোঝানো যায় না। নিহত শিশুদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র এবং তাদের আঁকা ছবির মাধ্যমে সেই ঘটনার মানবিক দিকও সামনে আনা সম্ভব।

আয়োজকেরা বিশেষ করে ইরানি শিশুদের অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক মানুষের সামনে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, মিনাবের শিশুদের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক জনমতের সামনে তুলে ধরা এবং যুদ্ধের কারণে বেসামরিক মানুষের যে ক্ষতি হয়, তা নিয়ে সচেতনতা তৈরি করাই প্রদর্শনীর অন্যতম উদ্দেশ্য।

একই সঙ্গে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রদর্শনীর আয়োজকেরা। ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের সময় বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করেছেন তারা।

আয়োজকেরা বলেন, বেসামরিক মানুষের মৃত্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাদের দাবি, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

তারা আরও বলেন, যুদ্ধ ও সংঘাতের সময় শিশু ও বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার বিষয়টি কোনোভাবেই রাজনৈতিক স্বার্থের কাছে গুরুত্ব হারাতে পারে না। তাদের মতে, এ ক্ষেত্রে দ্বৈত মানদণ্ডের সুযোগও থাকা উচিত নয়।

জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে প্রদর্শনী আয়োজনের মধ্য দিয়ে আয়োজকেরা মিনাবের নিহত শিশুদের স্মৃতি এবং তাদের পরিবারের দুর্ভোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে চেয়েছেন। প্রদর্শনীতে শিশুদের আঁকা ছবি ও ব্যবহৃত ব্যক্তিগত সামগ্রী রাখার মাধ্যমে হামলার ঘটনাকে শুধু একটি সামরিক সংঘাতের ঘটনা হিসেবে নয়, বরং শিশু ও বেসামরিক মানুষের জীবনে এর প্রভাব হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতে থাকা এই প্রদর্শনীতে আরও দর্শনার্থী ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা। তাদের আশা, মিনাবের শিশুদের গল্প আন্তর্জাতিক মহলে পৌঁছানোর পাশাপাশি যুদ্ধের সময় শিশু ও বেসামরিক মানুষের সুরক্ষার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসবে। সূত্র: ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি