ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবকে দেওয়া ফ্রান্সের সামরিক সহায়তা ‘সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক’ বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারো। তিনি বলেছেন, সৌদি আরবে ফ্রান্সের সহায়তার মধ্যে সেনা, রাডার ইউনিট এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ফ্রান্স ২-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বারো এ কথা বলেন। তার এই মন্তব্যের কয়েক দিন আগে, বৃহস্পতিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সৌদি আরবে ফরাসি সেনা, রাডার ইউনিট ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দেন।
ইয়েমেনে দীর্ঘ কয়েক বছরের যুদ্ধবিরতির পর জুলাইয়ে আবার সংঘাত শুরু হওয়ার পর সৌদি আরব হুথিদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের মধ্যে আরও একটি সংঘাতের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
হুথিদের চালানো হামলাগুলোর লক্ষ্যবস্তু হয়েছে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল টার্মিনাল ইয়ানবু। হুথিরা সৌদি আরবের জ্বালানি রপ্তানিতে অবরোধ আরোপের চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর সৌদি আরবের তেল রপ্তানির একটি অংশ লোহিত সাগর দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই রপ্তানি ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করেও হুথিদের হামলা চালানোর কথা বলা হয়েছে।
সৌদি আরবের হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ফ্রান্স সরাসরি অংশীদার হয়ে গেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বারো বলেন, বিষয়টি মোটেও এমন নয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ফ্রান্সের সহায়তা ‘সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক’। বারো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ফ্রান্স তাদের মিত্র ও অংশীদারদের সুরক্ষায় সামরিক সক্ষমতা মোতায়েন করে আসছে। তবে এসব সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনের অর্থ কোনো সময়েই ফ্রান্সকে ওই যুদ্ধে সহযোদ্ধা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সৌদি আরবে ফ্রান্সের সামরিক মোতায়েনের পরিধি কতটা বাড়ানো হবে, তা রিয়াদের অনুরোধ, ফ্রান্সের নিজস্ব সক্ষমতা এবং পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, এসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে বলে জানান বারো। সূত্র: আরব নিউজ