ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে সহায়তা করতে রাশিয়া প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বুধবার (২১ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে এ অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবং ইরানকে ঘিরে চলমান সংকট সম্পর্কে ওয়াশিংটনের মূল্যায়ন জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পুতিন বলেন, ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক বিশেষ এবং পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। কয়েক দশক ধরে এই সম্পর্ক বিকশিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংকট নিরসনে সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে মস্কো খুশি হবে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের পর পশ্চিম এশিয়ায় যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, তার প্রেক্ষাপটেই রাশিয়ার এই অবস্থান সামনে এল।
বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়টিও উঠে আসে। মস্কো ও কিয়েভের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে ট্রাম্পের মনোযোগের প্রশংসা করেন পুতিন। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে টেলিফোনে তাঁর কথা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি রাশিয়ার ডিজেল যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে সরবরাহের বিষয়ে একটি সমঝোতাকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেন পুতিন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা পুনরুজ্জীবিত করতেও মস্কো প্রস্তুত বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, উইটকফের আলোচনায় রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহ নিয়ে পুতিনের প্রতি ট্রাম্পের কৃতজ্ঞতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা আবার শুরু করার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন মার্কিন বিশেষ দূত। এবারের বৈঠকে উইটকফ একাই পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এর আগের দুটি বৈঠকে তাঁর সঙ্গে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ছিলেন। তবে অসুস্থতার কারণে এবার কুশনার অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। সূত্র: ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি