বিক্ষোভের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের প্রস্তুতি ফ্রান্সের

ফ্রান্সে বিক্ষোভের সময় টিকটক, ইনস্টাগ্রামসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ করার প্রস্তুতি নিতে টেলিকম অপারেটরগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ব্লাস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিক্ষোভের দুই দিন আগে লেকর্নু দেশটির চারটি প্রধান টেলিকম অপারেটর অরেঞ্জ, এসএফআর, ফ্রি ও বুইগ টেলিকমকে চিঠি পাঠান। এতে সম্ভাব্য সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হলে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট ও এক্সের মতো প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ করার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়। চিঠিতে এসব সেবায় সাময়িকভাবে প্রবেশাধিকার স্থগিত করার ক্ষমতা নিজের হাতে রাখতে চান বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারের পক্ষ থেকে ১৭ ও ১৮ অক্টোবরের বিক্ষোভের উদাহরণ তুলে ধরে এই অনুরোধের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের দাবি, ওই ঘটনাগুলোতে কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভূমিকা রেখেছিল। এ বিষয়ে শুক্রবার সরকারি সচিবালয়, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, এন্টারপ্রাইজবিষয়ক মহাপরিদপ্তর এবং চারটি টেলিকম প্রতিষ্ঠানের আইন বিভাগকে নিয়ে ৭০ মিনিটের একটি ভিডিও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

তবে সরকারের এই অনুরোধ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে টেলিকম অপারেটরগুলো। স্বল্প সময়ের মধ্যে এ ধরনের বিধিনিষেধ কার্যকর করার সক্ষমতা তাদের নেই বলে জানায় প্রতিষ্ঠানগুলো। পাশাপাশি তারা সতর্ক করে বলেছে, ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) কিংবা বিকল্প বার্তা আদান-প্রদানের সেবা ব্যবহার করে মানুষ সহজেই এসব নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে পারে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশ বন্ধ করলেও তা কার্যকর নাও হতে পারে।

ফ্রান্সে বিক্ষোভের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সীমিত করার নজির অবশ্য আগেও রয়েছে। ২০২৪ সালের মে মাসে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ফ্রান্সের অধীনস্থ নিউ ক্যালেডোনিয়ায় বিক্ষোভের মধ্যে টিকটক বন্ধ করা হয়েছিল। ওই নিষেধাজ্ঞা ২৯ মে তুলে নেওয়া হয়।

এদিকে শনিবারের বিক্ষোভে ফ্রান্সজুড়ে প্রায় এক হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে বিক্ষোভে অংশ নেন ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ। তবে অন্য একটি হিসাবে এই সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজধানী প্যারিসে সরকারের হিসাব অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল অন্তত ১ লাখ ১০ হাজার।

বিক্ষোভকারীরা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি সেবার সুরক্ষা এবং সরকারের কঠোর পুলিশি ব্যবস্থার প্রতিবাদ জানান। তাদের অভিযোগ, গত এক মাসে স্কুলশিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশ অতিরিক্ত কঠোরতা দেখিয়েছে, অথচ সরকার রাজনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ নেয়নি। গত মাসে শিক্ষকসংকট ও জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিবাদে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। পরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও ফ্রান্সের অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে অসন্তোষ জানাতে এতে আরও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যুক্ত হন। সূত্র: প্রেস টিভি