পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে দক্ষিণ কোরিয়াকে পাশে চান এরদোয়ান

তুরস্কের পরিকল্পিত সিনপ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে দক্ষিণ কোরিয়াকে অংশীদার হিসেবে চায় আঙ্কারা। এ প্রকল্পের কারিগরি ও অর্থনৈতিক দিক নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কোরিয়া ইলেকট্রিক পাওয়ার করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। সোমবার (২ নভেম্বর) দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

কৃষ্ণসাগর উপকূলে পরিকল্পিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কোন দেশ বা প্রতিষ্ঠানকে অংশীদার করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি তুরস্ক। এরদোয়ান বলেন, অংশীদার নির্বাচনের আগে অর্থায়নের ব্যবস্থা, উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম এবং তুরস্কের অর্থনীতিতে প্রকল্পটির সম্ভাব্য সুফল বিবেচনা করা হবে।

সাক্ষাৎকারে পারমাণবিক বিদ্যুতের বাইরেও দুই দেশের সহযোগিতার বেশ কয়েকটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করেন এরদোয়ান। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিরক্ষা, সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহী চিপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং রোবোটিকস। এসব খাতে যৌথ উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়াতে দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তুরস্ক ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েও কথা বলেন এরদোয়ান। তবে দুই দেশের বাণিজ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার অনুকূলে যে ভারসাম্যহীনতা রয়েছে, তা কমাতে উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

এ ছাড়া এশিয়া ও ইউরোপকে যুক্ত করা তুরস্কের পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলোকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান এরদোয়ান।

সোমবার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সিউল পৌঁছানোর কথা রয়েছে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের। ২০১৮ সালের পর এটিই তাঁর প্রথম দক্ষিণ কোরিয়া সফর। সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে বসবেন তিনি। সেখানে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট