কারাবন্দি নেতা ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির সঙ্গে আদিয়ালা কারাগারে সাক্ষাতের জন্য ইসলামাবাদ হাইকোর্টে (আইএইচসি) আবেদন করেছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।
এদিকে, আদিয়ালা কারাগারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শেষ করে রাওয়ালপিন্ডিতে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিলে পাঞ্জাব পুলিশ পিটিআইয়ের বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে বলপ্রয়োগ করে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে পিটিআই জানায়, পুলিশের অভিযানে একাধিক নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার ও আহত হয়েছেন।
প্রায় ১৭ জন সিনেটরের একটি প্রতিনিধি দল, যার মধ্যে সিনেটর ব্যারিস্টার সৈয়দ আলী জাফরও রয়েছেন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৯৯ অনুযায়ী হাইকোর্টে আবেদন করেন। এ আবেদনে পাঞ্জাব স্বরাষ্ট্র দপ্তর ও আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টকে বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনে ইমরান খান ও বুশরা বিবির বিরুদ্ধে কারাগারে কথিত অবৈধ ও অসাংবিধানিক একক কারাবাস এবং অন্যান্য অমানবিক আচরণও চ্যালেঞ্জ করা হয়। এতে বলা হয়, দীর্ঘদিনের একক কারাবাস কার্যত নির্যাতনের শামিল এবং এটি সংবিধানে নিশ্চিত করা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে।
ব্যারিস্টার আলী জাফর বলেন, সংসদীয় তদারকি ও মানব মর্যাদা এবং আইনের শাসন রক্ষার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই সিনেটররা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
আবেদনে দাবি করা হয়, গত দুই মাস ধরে কোনো বিচারিক আদেশ বা পাকিস্তান দণ্ডবিধি কিংবা প্রিজন অ্যাক্টের আওতায় কোনো আইনি ভিত্তি ছাড়াই ইমরান খান ও বুশরা বিবিকে একঘরে করে রাখা হয়েছে।
এতে আরও অভিযোগ করা হয়, তাদের বই, পত্রিকা, টেলিভিশন, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং আইনজীবীর সঙ্গে গোপন বৈঠকের মতো মৌলিক বন্দি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি, আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতিও ইচ্ছামতো অস্বীকার করা হচ্ছে।
সিনেটররা দাবি করেন, এসব ব্যবস্থা শাস্তিমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশেপ্রণোদিত, যা রাজনৈতিক বন্দিদের ওপর চাপ প্রয়োগের একটি বৃহত্তর ধারার অংশ এবং এর ফলে সাংবিধানিক গণতন্ত্র ও সংসদীয় নজরদারি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে, পিটিআইয়ের অন্তর্বর্তী চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর, সাবেক জাতীয় পরিষদের স্পিকার আসাদ কায়সার এবং দলের মহাসচিব সালমান আকরাম রাজাও ইমরান খান ও বুশরা বিবি সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত শুনানির তারিখ নির্ধারণের দাবিতে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে উপস্থিত হন।
সূত্র জানায়, পিটিআই নেতৃত্ব আইএইচসির প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ চাইলেও সেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি।
গণমাধ্যমে কথা বলতে গিয়ে ব্যারিস্টার গওহর বলেন, তিনি মামলাগুলোর দ্রুত শুনানির অনুরোধ জানাতে প্রধান বিচারপতির কক্ষে গিয়েছিলেন, কিন্তু সাক্ষাৎ সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, পরে আবার চেষ্টা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, পিটিআই ইতোমধ্যে প্রায় ১৫ বার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো শুনানির তারিখ পাওয়া যায়নি। তার ভাষায়, একজন নারীর আপিল দ্রুত শুনানি হওয়া উচিত।
সূত্র: ডন