কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে তার ডান চোখের চিকিৎসার অংশ হিসেবে রাজধানীর পাকিস্তান ইন্সটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিমস) হাসপাতালে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সেখানে তাকে অ্যান্টি-ভিইজিএফ ইন্ট্রাভিট্রিয়াল ইনজেকশনের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে বলে চিকিৎসক সূত্রে জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন।
হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, চিকিৎসার আগে বিশেষজ্ঞদের একটি মেডিকেল বোর্ড ইমরান খানকে পরীক্ষা করে। বোর্ডে একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞও ছিলেন। এ সময় তার ইকোকার্ডিওগ্রাফি ও ইসিজি পরীক্ষা করা হলে ফলাফল স্বাভাবিক পাওয়া যায়। চিকিৎসা চলাকালীন এবং পরবর্তী পর্যবেক্ষণেও তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও ফলো-আপ পরামর্শ দিয়ে তাকে পরে হাসপাতাল থেকে ছাড় দেওয়া হয়।
এর আগে গত ১১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা এক মেডিকেল প্রতিবেদনে বলা হয়, ইমরান খান তার ডান চোখের প্রায় ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। পিটিআইয়ের আইনজীবী সালমান সফদারের জমা দেওয়া ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রক্ত জমাট বাঁধা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে তার দৃষ্টিশক্তি দ্রুত কমে আসে এবং চিকিৎসা সত্ত্বেও ডান চোখে প্রায় ১৫ শতাংশ দৃষ্টি অবশিষ্ট রয়েছে।
প্রতিবেদনে ইমরান খান আদালতকে জানান, কয়েক মাস আগে পর্যন্ত তার উভয় চোখেই স্বাভাবিক দৃষ্টি ছিল। পরে ক্রমাগত ঝাপসা দেখার সমস্যা শুরু হলে তিনি কারা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন, তবে অভিযোগ অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এদিকে পিটিআইয়ের দাবি, ইমরান খানের ডান চোখে সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন (সিআরভিও) ধরা পড়েছে। যথাযথ চিকিৎসা না হলে স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে বলেও দলটি সতর্ক করেছে।
উল্লেখ্য, একাধিক মামলায় অভিযুক্ত ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। গত ডিসেম্বরে জাতীয় নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে পাকিস্তান সরকার কারাগারে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ কার্যত নিষিদ্ধ করে।
নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপে অটল অবস্থানে ট্রাম্প
ইরানে বাজারে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ৪
