ভারত মহাসাগরে উদ্ধার অভিযানে নেমেছে ভারতীয় নৌবাহিনী

ভারতের বিশাখাপত্তনমে নৌ-মহড়া শেষ করে ফেরার পথে মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় ডুবে যাওয়া ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’ (IRIS Dena)-র নাবিকদের উদ্ধারে বড় ধরনের তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে ভারতীয় নৌবাহিনী। শ্রীলঙ্কার গাল উপকূল থেকে ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় গত ৪ মার্চ ভোরে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

ভারতীয় নৌবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ৪ মার্চ ভোরে কলম্বোর মেরিটাইম রেসকিউ কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (MRCC) থেকে বিপৎসংকেত পাওয়ার পরপরই ভারত তার উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। ভারতের বিশাখাপত্তনমে আয়োজিত ‘মিলন ২০২৬’ মহড়ায় অংশ নিয়ে ফেরার পথে হামলার শিকার হয় ইরানি ফ্রিগেটটি।

উদ্ধার কাজে ভারতীয় নৌবাহিনী একটি দূরপাল্লার সামুদ্রিক টহল বিমান (LRMPA) মোতায়েন করেছে। এছাড়া পালতোলা প্রশিক্ষণ জাহাজ ‘আইএনএস তরঙ্গিনী’ এবং কোচি থেকে সার্ভে ভেসেল ‘আইএনএস ইক্ষক’ বর্তমানে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে। শ্রীলঙ্কা ও ভারতের নৌবাহিনী যৌথভাবে এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ পেন্টাগনে এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে একে ‘নীরব মৃত্যু’ (Quiet Death) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, মার্কিন সাবমেরিন থেকে ছোড়া টর্পেডোর আঘাতেই জাহাজটি নিমজ্জিত হয়। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একে ‘সমুদ্রে নৃশংসতা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, প্রায় ১৩০ জন নাবিকসহ জাহাজটি যখন ভারতের মেহমান হিসেবে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ফিরছিল, তখন কোনো সতর্কতা ছাড়াই এটিতে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ‘তীব্র অনুশোচনা’ করতে হবে।

শ্রীলঙ্কা এই সংঘাতে নিজেদের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। উল্লেখ্য, ইরান শ্রীলঙ্কার চায়ের বড় আমদানিকারক হওয়ায় লঙ্কান অর্থনীতির জন্য এই অঞ্চলটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এর মধ্যেই আজ প্রায় ৩০০ জন ক্রু ও ক্যাডেট নিয়ে ইরানের দ্বিতীয় আরেকটি যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস বুশেহর’ শ্রীলঙ্কার জলসীমার কাছে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।

ভারত মহাসাগরে পরাশক্তিদের এই সামরিক উত্তেজনা ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক চরম উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।