ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল বুধবার (২৯ এপ্রিল)। এই দফার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীসহ রাজ্য রাজনীতির শীর্ষ সারির হেভিওয়েট প্রার্থীদের ভাগ্য।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। এই দফায় রাজ্যের দক্ষিণবঙ্গের ৭টি জেলার মোট ১৪২টি আসনে লড়াই হবে।
জেলাগুলো হলো- নদিয়া (১৭), উত্তর ২৪ পরগনা (৩৩), দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৩১), কলকাতা (১১), হাওড়া (১৬), হুগলি (১৮) এবং পূর্ব বর্ধমান (১৬)।
নির্বাচনে ১ হাজার ৪৪৮ জন প্রার্থীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবেন ৩ কোটি ২১ লাখেরও বেশি ভোটার। এর মধ্যে ২২০ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন। ৩৯ হাজার ৩০১টি মূল বুথসহ মোট ৪১ হাজার ১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিতে এবার নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ২ হাজার ৩৪৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Force) মোতায়েন করা হয়েছে, যা রাজ্যের নির্বাচনি ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ। এর পাশাপাশি ৩৮ হাজার ২৯৭ জন রাজ্য পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ইতোমধ্যে পুরোপুরি সিল করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নজরদারির জন্য ১৪২ জন সাধারণ পর্যবেক্ষক এবং ৯৫ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক মোতায়েন রয়েছেন।
শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষ্য থাকলেও শেষ দফার আগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। গত রোববার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, সোমবার আরামবাগের তৃণমূলের সাবেক সংসদ সদস্য মিতালী বাগের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন।
গত ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত প্রথম দফার নির্বাচনে রেকর্ড ৯৩.১৯ শতাংশ ভোট পড়েছিল। দ্বিতীয় দফাতেও ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি আশা করছে কমিশন। আগামীকাল সন্ধ্যায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর থেকেই শুরু হবে ফলাফলের প্রতীক্ষা।