ট্রাম্প-শি বৈঠকে তীক্ষ্ণ নজর দিল্লির, নেপথ্যে কৌশলগত উদ্বেগ

বেইজিংয়ের 'গ্রেট হল অফ দ্য পিপল'-এ যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শি জিনপিং করমর্দন করছেন, তখন তার প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে প্রতিবেশী দেশ ভারতের রাজনৈতিক ও কৌশলগত মহল। দীর্ঘ দুই দশকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পর বর্তমান প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের এই ঘনিষ্ঠতা দিল্লির জন্য নতুন হিসাব-নিকাশের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ২৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত তাদের সম্পর্ককে ‘দুই বৃহৎ গণতন্ত্রের বন্ধন’ হিসেবে প্রচার করলেও, এর আড়ালে মূল ভিত্তি ছিল চীনের ক্রমবর্ধমান উত্থান মোকাবিলা করা। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শি জিনপিংয়ের আগ্রাসী মনোভাব রুখতে দুই দেশই ছিল একাট্টা। কিন্তু বর্তমানে ট্রাম্পের ‘শি-বন্দনা’ এবং চীনের সঙ্গে সুসম্পর্কের ইঙ্গিত দিল্লির সেই পুরোনো কৌশলগত ছককে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

এছাড়াও গত বছর ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প, যা পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী মিত্রদের ওপর ট্রাম্পের এমন কঠোর বাণিজ্যিক অবস্থান এবং অন্যদিকে চীনের প্রতি বর্তমান নমনীয় সুর ভারতকে ভাবিয়ে তুলছে।

ভারত গত বছরের শুরু থেকেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে আসছে। কিন্তু ট্রাম্প ভারতকে পাশ কাটিয়ে প্রথমে বেইজিং সফরকে বেছে নিয়েছেন। এই কূটনৈতিক অগ্রাধিকার পরিবর্তন ভারতের জন্য একটি বড় সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দুই দিনে বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও শি-র মধ্যে কী কী চুক্তি বা সমঝোতা হয়, তার ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে ভারতের পরবর্তী পররাষ্ট্রনীতি। যদি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বড় কোনো কৌশলগত ঐক্য গড়ে ওঠে, তবে ভারতকে হয়তো চীনের সঙ্গে নিজের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সমীকরণ পুনরায় সাজাতে হবে।
সূত্র: আলজাজিরা