নেপালের দক্ষিণাঞ্চলীয় তরাই অঞ্চলে, বিশেষ করে নেপাল–এর বিস্তৃত বনভূমি ও তৃণভূমিতে লুকিয়ে থাকা বাঘ নিয়ে দীর্ঘদিনের রহস্য এবার উঠে এলো আধুনিক প্রযুক্তির চোখে। ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে আকাশ থেকে ধরা পড়ল এক বিশাল বাঘিনীর শুয়ে থাকা শান্ত দৃশ্য, যা মুহূর্তেই রূপ নেয় রোমাঞ্চকর এক অভিজ্ঞতায়।
স্থানীয় গাইড সুশীলা মহাতরা জানান, বাঘটি মাত্র কয়েকশ মিটার দূরে অবস্থান করছিল। তার মতো অভিজ্ঞ ট্র্যাকারদের সহায়তায়ই মূলত এই অঞ্চলের বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণ আরও কার্যকর হয়েছে। সুশীলা ও তার বোন মানজু মহাতরা দীর্ঘদিন ধরে বার্দিয়া জাতীয় উদ্যান–এ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পর্যটন কার্যক্রমে যুক্ত আছেন।
তরাই অঞ্চল, যা ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা নীচু সমতলভূমি, সেখানে বাঘ ছাড়াও হাতি, গণ্ডার ও চিতাবাঘের মতো প্রাণী টিকে আছে। একসময় এই বাঘ প্রায় বিলুপ্তির মুখে ছিল। ২০০৯ সালে পুরো নেপালে বাঘের সংখ্যা ছিল মাত্র ১২১টি, যা ২০২২ সালের মধ্যে বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫৫টিতে।
এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে রয়েছে শিকারবিরোধী অভিযান, আবাসস্থল পুনরুদ্ধার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ। পরিবেশ সংরক্ষণে স্থানীয় মানুষদের সম্পৃক্ত করাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রায় তিন দশক আগে শুক্লাফান্তা জাতীয় উদ্যান (স্থানীয়ভাবে টাইগার আইল্যান্ড নামে পরিচিত)–এ বাঘ দেখতে না পাওয়া একসময়কার বাস্তবতা আজ বদলে গেছে। এখন একই অঞ্চলে বাঘের উপস্থিতি নিয়মিতভাবে শনাক্ত হচ্ছে, যদিও তাদের দেখা পাওয়া এখনও চ্যালেঞ্জিং।
ডকুমেন্টারি নির্মাণে বিবিসি স্টুডিও–এর দল ও স্থানীয় ট্র্যাকারদের সমন্বয়ে এমন দৃশ্য ধারণ সম্ভব হয়েছে, যা আগে কখনও নথিবদ্ধ হয়নি বলে দাবি করা হচ্ছে। ড্রোন প্রযুক্তি ও স্থানীয় জ্ঞানের এই সংমিশ্রণ বাঘ গবেষণায় নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
তবে সাফল্যের পাশাপাশি রয়েছে সংঘাতের বাস্তবতা। হাতি ফসল নষ্ট করে, বাঘ গবাদিপশু শিকার করে, কখনও কখনও মানুষের জন্যও ঝুঁকি তৈরি হয়। তবুও স্থানীয়দের অনেকেই মনে করেন, বন্যপ্রাণী টিকে থাকলেই তাদের জীবিকাও টিকে থাকবে।
সবশেষে, এক ক্ষণিকের দৃশ্যে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে ছুটে যাওয়া এক বাঘিনী আবারও মনে করিয়ে দেয়, এই লুকিয়ে থাকা শিকারি এখনও নেপালের বনে বেঁচে আছে, শক্তিশালী এবং স্বাধীন। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ