প্রাপ্তবয়স্ক দুই নারী ও পুরুষের দীর্ঘদিনের সম্মতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা শারীরিক সম্পর্ককে শুধুমাত্র বিয়ের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার অজুহাতে ‘ধর্ষণ’ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে এমনটাই পর্যবেক্ষণ দিয়েছে ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট।
আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের পর তা শেষ পর্যন্ত পূর্ণ না হলে তাকে সব ক্ষেত্রে ধর্ষণের অপরাধ হিসেবে দেখা যাবে না। খবর এনডিটিভির।
সম্প্রতি বিচারপতি বিবেক কুমার সিংয়ের একক বেঞ্চ সঞ্জয় সরোজ ওরফে সঞ্জয় কুমার নামে এক ব্যক্তির করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় দেন। একই সঙ্গে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ট্রায়াল কোর্টে চলমান সব আইনি প্রক্রিয়া খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
৩৪ পাতার বিস্তারিত রায়ে হাইকোর্ট উল্লেখ করেছে, অভিযোগকারী নারী যদি সজ্ঞানে এবং সম্মতির ভিত্তিতে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে থাকেন, তবে অভিযুক্তকে ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, অভিযোগকারী কেবল বিবাদে জড়িয়ে বা ক্ষুব্ধ হয়ে এই মামলাটি করেছেন। বিশেষ করে, এফআইআর দায়েরের পর অভিযোগকারী নিজেই ওই ব্যক্তিকে বিয়ে করেছেন, যা থেকে এটি স্পষ্ট যে, বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করতেই ওই মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আদালত একে বিচারিক প্রক্রিয়ার অপব্যবহার এবং ‘বিরলতম’ ঘটনা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৯ সালে প্রয়াগরাজের কর্নেলগঞ্জ থানায়। ২০১৪ সালে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রয়াগরাজে এসে ওই নারী অভিযুক্তের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। পরে ওই নারী অভিযোগ করেন, বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিযুক্ত তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। পরবর্তীতে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। তবে তদন্তে এর কোনো জোরালো প্রমাণ বা চিকিৎসকের প্রতিবেদনে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
আদালত জানায়, পাঁচ বছর দীর্ঘ সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রতিবার শারীরিক সম্পর্কের পেছনে কেবল বিয়ের প্রতিশ্রুতিই কারণ ছিল—এটি মেনে নেওয়া কঠিন। আদালত প্রমোদ সূর্যভন পাওয়ার ও দীপক গুলাটিসহ ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায়ের প্রসঙ্গ টেনে জানায়, বিয়ের প্রতিশ্রুতি ‘শুরু থেকেই মিথ্যা’ ছিল—এমন প্রমাণ থাকলে তবেই কেবল তা ধর্ষণের অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই ক্ষেত্রে সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল, কিন্তু কোনো প্রতারণার উদ্দেশ্য ছিল না।
শেষ পর্যন্ত রাজ্য বনাম ভজন লাল মামলার নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই মামলার আইনি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়াকে ‘অযৌক্তিক’ এবং ‘বিচারিক প্রক্রিয়ার অপব্যবহার’ হিসেবে গণ্য করে আদালত তা বাতিল করে দেয়।