মেজাজ হারালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের দলের কর্মীকেই মারলেন স্বজোরে খাপ্পড়। বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা ৫৯ মিনিটে ইন্ডিয়া ট্যুডে তাদের পোর্টালে এমন একটি সংবাদ প্রকাশ করেছেন।
সাংবাদিক অনুপম মিশ্রের ওই প্রতিবেদনে জানাগেছে, গত রোববার (৫ জুলাই) পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ওই দিনই বারুইপুরে ঘটনাস্থলে যেতে চেয়েছিলেন মমতা। কিন্তু বারুইপুরে যাওয়া ঠেকাতে তাকে একপ্রকার নজরবন্দি করে ফেলে রাজ্যের বিজেপি সরকার। তার কালীঘাটের বাসভবন ঘিরে ফেলে পুলিশ।
বুধবার (৮ জুলাই) রাজ্য সরকারের ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতে হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে পথে নেমেছিল কালীঘাট তৃণমূলের ছাত্র-যুবারা। পথে বিজেপির একটি মিছিল মুখোমুখি হয়ে যাওয়ায় ছাত্র-যুবাদের মিছিল ঘিরে হাজরা চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে মিছিল শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে হাজরার কাছে অন্য একটি মিছিল সেখানে ঢুকে পড়ে। ওঠে ‘চোর চোর’ ধ্বনি। চলে ‘মাছ চোর’ গান।
এর ফলেই অশান্তি শুরু হয়। হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন কালীঘাট তৃণমূল ও বিজেপির কর্মীরা। তৃণমূলের অভিযোগ, এই তাণ্ডবের নেপথ্যে রয়েছে বিজেপি। এভাবে মিছিলে ঢুকে পড়ার অর্থ আদালত অবমাননা। চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে মিছিলে শেষে অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেক কর্মী।
পরে মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে যান কর্মীরা। ফলে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে মমতার বাড়ির সামনেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। সেই সময় বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিজেই ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে নামেন মমতা। দুই হাতে সবাইকে সরতে ইঙ্গিত করেন।
কিন্তু তার পরও চরম বিশৃঙ্খলা চলছিল। ফোনের ক্যামেরা হাতে নিয়ে অনেকেই সরতে চাননি। ভিড়ের চাপে সেখানেও অসুস্থ হয়ে পড়েন আরও অনেক কর্মী। তাদের গাড়িতে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তীব্র হয়। এর পরই মেজাজ হারান মমতা। প্রথমে মাইক হাতে ভিড় সামলাচ্ছিলেন তিনি। ভিড় সরাচ্ছিলেন। সেই সময় কমলা টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তির গালে চড় মারতে দেখা যায় মমতাকে।
সূত্রের খবর, ওই ব্যক্তিও একজন তৃণমূলকর্মী। এরপর আরও বেশ কয়েকজন কর্মীর পিঠেও থাপ্পড় মারতে দেখা যায় মমতাকে। তবে কী কারণে তিনি এভাবে চড়াও হলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।