ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে সহায়তা করার পর রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানিয়েছেন, তার দেশ ও উত্তর কোরিয়া মিলে গড়ে তুলছে এক ‘নতুন ও ন্যায্য বিশ্বব্যবস্থা।’ গত বছর রাশিয়ার একটি অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে হটাতে পিয়ংইয়ং যে সহায়তা দিয়েছিল, তারই প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য করেন তিনি।
উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চোয়ে সন হুইকে পাঠানো এক বার্তায় লাভরভ সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানো এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় অবদান রাখার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন। উত্তর কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ গতকাল এ তথ্য জানিয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ২০২৪ সালের শেষদিকে আনুমানিক ১৪ হাজার সেনা রাশিয়ায় পাঠিয়েছিলেন, যাতে কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের বড় ধরনের আগ্রাসন ঠেকাতে মস্কোকে সহায়তা করা যায়। ২০২৫ সালের মে মাসে বিজয় ঘোষণা করে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রকাশ্যেই পিয়ংইয়ংকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন।
কেসিএনএ-র বরাতে জানা যায়, লাভরভ তার বার্তায় বলেছেন-রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া ‘প্রকৃত সমতা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে’ একটি নতুন ও ন্যায্য বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে সোমবার রাশিয়া ব্রিটেনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়া এবং হামলায় ব্যবহৃত ড্রোন সরবরাহ করার জন্য তাদের ‘মূল্য’ চোকাতে হবে। এর জবাবে গতকাল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের পাশে ব্রিটেন ‘শতভাগ থাকবে’ এবং ‘প্রয়োজনের সময়’ কিয়েভকে একা ছাড়বে না।
শনিবার টাইমস পত্রিকার এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ব্রিটিশ নির্মিত ড্রোন প্রথমবারের মতো রাশিয়ার বিরুদ্ধে দূরপাল্লার হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনের পর রাশিয়া ব্রিটেনকে যুদ্ধে ক্রমেই বেশি জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ তোলে। রাশিয়ার দূতাবাস তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলে, ‘লন্ডনের এই পদক্ষেপের পরিণতি অনিবার্য, যার জবাব তাদের দিতেই হবে।’
এই উত্তেজনার মধ্যেই গতকাল ইউক্রেন জানায়, উত্তর-পূর্ব ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলের একটি গ্রামে রুশ হামলায় ১০ জন নিহত হয়েছেন। এর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে কিয়েভ। খারকিভ অঞ্চলের গভর্নর ওলেগ সিনেগুবভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, রুশ বাহিনী রুশ সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পেচেনিহি গ্রামে রকেট হামলা চালিয়েছে।
সাড়ে চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, আর এই হামলা যেন সেই ভয়াবহ প্রবণতারই সবশেষ প্রমাণ।