পারস্য উপসাগরে ‘পোস্ট-আমেরিকান অর্ডার’-এ স্বাগতম: রেজাই

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পারস্য উপসাগরে ‘পোস্ট-আমেরিকান অর্ডার’ বা আমেরিকাবিহীন নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার উত্থান হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো একটি মানচিত্র প্রকাশের পর মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ মন্তব্য করেন তিনি।

এক্সে দেওয়া পোস্টে রেজাই বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অক্ষমতা এবং প্রণালিটির ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার মার্কিন দাবির মধ্যকার ব্যবধান ওয়াশিংটন থেকে হরমুজের প্রায় ৭ হাজার মাইল দূরত্বের চেয়েও বেশি।

এরপর তিনি লেখেন, পারস্য উপসাগরে আমেরিকাবিহীন নতুন ব্যবস্থাকে স্বাগত।

রেজাইর এই মন্তব্য আসে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে। ট্রাম্প একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছেন, যেখানে হরমুজ প্রণালিকে ‘নিউ ইউএস টেরিটরি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কৌশলগত এই জলপথকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করার কথা বলেছিলেন।

রেজাইর বক্তব্যে মূলত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পাল্টাপাল্টি অবস্থানই উঠে এসেছে। ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ ও অবরোধের অবসান না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে না।

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। এটি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর এবং বৃহত্তর ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ফলে এই জলপথে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা বিশ্ব জ্বালানি ও নৌপরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

রেজাইর মন্তব্যের মধ্য দিয়ে হরমুজকে ঘিরে ইরানের রাজনৈতিক বার্তাটিও স্পষ্ট হয়েছে, তেহরান বিষয়টিকে শুধু একটি সামরিক বা নৌ-নিরাপত্তার ইস্যু হিসেবে দেখছে না; বরং পারস্য উপসাগরের ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রশ্ন হিসেবেও তুলে ধরছে। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি

AS
আরও পড়ুন