পাঞ্জাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা মরিয়ম নওয়াজের

দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন পাকিস্তানের পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফ। এ লক্ষ্যে অভিযোগ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একটি গোপনীয় সেল গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগ জানাতে চালু করা হয়েছে হেল্পলাইন ১৩৫০।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, এই সেল থেকে প্রস্তুত করা প্রতিবেদন সরাসরি তার কাছে জমা দিতে হবে। প্রয়োজন হলে অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। দুর্নীতির অভিযোগ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মরিয়ম নওয়াজ জনগণের প্রতি ঘুষ দাবি, ক্ষমতার অপব্যবহার বা দুর্নীতির যেকোনো ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে হেল্পলাইনে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। অভিযোগকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, জনগণের একটি তথ্যও দুর্নীতি ও ঘুষের পুরো একটি চক্রের সন্ধান দিতে পারে। লুট করা অর্থ পুরোপুরি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যয় ও কাজের মান যাচাইয়ে স্বাধীন পর্যালোচনা বাধ্যতামূলক করেছেন মরিয়ম। প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা ব্যবহারের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। তার ভাষ্য, উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ করা অর্থের একটি পয়সাও অস্বচ্ছভাবে ব্যয় করা হলে সংশ্লিষ্ট কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ভালো কাজ করা কর্মকর্তাদের মুখ্যমন্ত্রীর মেরিট ব্যাজের মাধ্যমে উৎসাহিত করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। সরকারি অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত কাউকেই পদ, ব্যক্তিগত যোগাযোগ বা সুপারিশের মাধ্যমে রক্ষা করা যাবে না বলে সতর্ক করেন মরিয়ম।

এদিকে পাঞ্জাবের সরকারি জনসংযোগ অধিদপ্তর পুনর্গঠনের নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সংস্থাটির কার্যক্রম মূল্যায়নে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে যাচাইয়ের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে কৃষকদের দোরগোড়ায় গবাদিপশুর চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয় সেবা পৌঁছে দিতে নতুন পশুচিকিৎসা বহর উদ্বোধন করেছেন মরিয়ম। নতুন করে ৩০টি ভ্রাম্যমাণ পশুচিকিৎসা কেন্দ্র ও ১৭টি পরীক্ষাগার চালু করা হয়েছে। এতে প্রদেশে কার্যকর ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা ও পরীক্ষাগারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬২টি।

ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্রগুলোতে আল্ট্রাসাউন্ড ও এক্স-রে সুবিধা থাকবে। পাশাপাশি পশুর রোগ শনাক্তকরণ ও নজরদারিও করা হবে। পাঞ্জাবের বিভিন্ন তহসিলে পশুপালকদের বাড়িতে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে ৬ হাজার ৯৬৪টি মোটরসাইকেলে পশুচিকিৎসা সহকারী মোতায়েনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রদেশের তহসিল পর্যায়ে ২৩০টি পশু হাসপাতাল নির্মাণ বা সংস্কার করা হবে। প্রতিটি তহসিলে একটি করে আধুনিক মডেল পশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে। সূত্র: ডন