রাজনৈতিক সম্মেলন মানেই সাধারণত গুরুগম্ভীর আলোচনা, আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আর কূটনৈতিক ব্যস্ততা। তবে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে সেই চেনা পরিবেশে ভিন্ন মাত্রা যোগ করলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। অনুষ্ঠানে মঞ্চে উঠে জনপ্রিয় ভারতীয় গায়ক কিশোর কুমারের একটি কালজয়ী গান গেয়ে উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করেছেন তিনি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়োজনে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে রয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম। সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত নৈশভোজে তিনি কিশোর কুমারের ১৯৬৫ সালের জনপ্রিয় গান ‘খোয়াব হো তুম ইয়া কোই হকিকত’ পরিবেশন করেন। গানটি Teen Devian সিনেমার। লাইভ পিয়ানোর সঙ্গতে গানটি গেয়ে শোনান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। এস ডি বর্মনের সুর করা গানটির কথা লিখেছিলেন প্রখ্যাত গীতিকার মাজরুহ সুলতানপুরী।
আনোয়ারের গানের ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবেশনার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন তিনি। ক্যাপশনে মালয় ভাষায় লিখেছেন, ‘Guru mintak izin nyanyi kejap ok!’—যার অর্থ দাঁড়ায়, ‘গুরু, একটু গান গাইতে পারি?’
ভিডিও প্রকাশের পরপরই তা নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। অনেকেই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর গানের প্রশংসা করেছেন। একজন মন্তব্য করেন, তার কণ্ঠ বেশ মেলোডিয়াস লেগেছে এবং ভারতে তার সময়টি আনন্দময় হয়েছে। আরেকজন মালয়েশিয়াকে নিজের দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবে উল্লেখ করে আনোয়ারের এই সাংস্কৃতিক মুহূর্তের প্রশংসা করেন। অন্য এক ভারতীয় প্রবাসী মন্তব্য করেন, তিনি জানতেন না আনোয়ার এত সুন্দর গান করেন; তার পরিবেশনা উপভোগ করেছেন বলেও জানান।
ভারতীয় সংগীত ও সিনেমার প্রতি আনোয়ার ইব্রাহিমের অনুরাগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার ভারতীয় গানপ্রেমের প্রকাশ ঘটেছে। ভারতে আগের এক সফরেও তিনি একই কিশোর কুমারের গানটি পরিবেশন করেছিলেন। শুধু কিশোর কুমারই নন, ২০২৪ সালে দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে তিনি কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী মুকেশের জনপ্রিয় গান ‘দোস্ত দোস্ত না রাহা’-ও গেয়েছিলেন।
ফলে নয়াদিল্লিতে এবার তার গান পরিবেশনকে অনেকেই নিছক বিনোদনের মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন না। বরং এটি দুই দেশের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ও ভারতীয় সংগীতের আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তারও একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। রাজনীতি ও কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ব্যস্ততার মধ্যে আনোয়ারের এই স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশনা তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলাদা করে নজর কেড়েছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বৈঠক ও আনুষ্ঠানিকতার বাইরে এমন সাংস্কৃতিক মুহূর্ত দুই দেশের সম্পর্কের মানবিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ দিকটিকেও সামনে এনে দিয়েছে।