মুম্বাইয়ের একটি রেস্তোরাঁর খাবারে মরা ইঁদুর পাওয়ার অভিযোগ ওঠার পর গত ২৮ সেপ্টেম্বর হোটেলটির লাইসেন্স তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হয়। তবে বোরিভ্যালির ‘রাধাকৃষ্ণা হোটেল’-এর ঝামেলা এখানেই শেষ হয়নি; এরপরেই শুরু হয় এক অভিনব ব্ল্যাকমেইলের খেলা। ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে হোটেল মালিকের কাছে ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৪ সেপ্টেম্বর। মানসি আচার্য নামের এক নারী দুই পুরুষ ও এক শিশুকে সঙ্গে নিয়ে রাধাকৃষ্ণা হোটেলে খেতে গিয়েছিলেন। তারা টেবিলে যে খাবারগুলো অর্ডার করেছিলেন, তার মধ্যে একটি ছিল মাইসোর মসলা দোসা। আর সেই দোসার ভেতর থেকেই একটি মৃত ইঁদুর পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ তোলেন মানসি।
মানসির দাবি অনুযায়ী, তার ভাই দোসার কয়েকটি গ্রাস খেতেই এর ভেতরে একটি ছোট মরা ইঁদুর দেখতে পান। বিষয়টি তাকে দারুণভাবে শক দেয় এবং তিনি সঙ্গে সঙ্গে বমি করে ফেলেন। এরপর অভিযোগকারী নারী বোরিভ্যালি থানায় ফোন করে বিষয়টি জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর, খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA) গত ২৮ সেপ্টেম্বর হোটেলটির লাইসেন্স স্থগিত করে। হোটেল মালিকের দাবি, এই ঘটনার কারণে হোটেলটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল।
এর পরপরই হোটেল মালিকের কাছে ভিডিওটি আরও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ফোন আসতে শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হোটেল মালিকের আত্মীয়দের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন এবং বিষয়টি তাদের জানিয়ে দেন।
মামলা ধামাচাপা দিতে এবং বিষয়টি মিটিয়ে ফেলতে ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। বারবার ফোন করে হোটেল মালিককে মানসিক হেনস্তা করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত দরদাম করে ৬ লাখ টাকায় বিষয়টি রফাকরা হয়।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর হোটেল মালিক বোরিভ্যালি থানায় এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। ততক্ষণে ক্যাশে ১ লাখ টাকা অভিযুক্তদের দিয়েও দেওয়া হয়েছিল।
এরপর নড়েচড়ে বসে পুলিশ। বোরিভ্যালি থানা পুলিশ একটি ফাঁদ পাতে এবং ওই নারীকে আরও ৬ লাখ টাকা নেওয়ার জন্য ডেকে পাঠায়। অবশেষে চাঁদার টাকা হাতে নেওয়ার সময় হাতেনাতে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এই মামলার মূল অভিযুক্ত ব্যক্তি আর কেউ নন, তিনি সেই নারী—৩৬ বছর বয়সী মানসি অমিত আচার্য, যিনি বোরিভ্যালির গোরি এলাকার বাসিন্দা।
ঘটনার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং বোরিভ্যালি পুলিশ এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।
সূত্র: এনডিটিভি