নেপালে আবারও আকস্মিক বন্যা, গ্রামবাসীদের সরানোর নির্দেশ

নেপালের মধ্যাঞ্চলে ভূমিধসের কারণে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ও অবকাঠামো ভেসে গেছে। পরিস্থিতির অবনতি ও নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় রোববার (১১ অক্টোবর) নদীতীরবর্তী গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

নেপালি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমে গোরখা জেলার চুমনুব্রি গ্রামে একটি ভূমিধসের ফলে বুধি গণ্ডকী নদীর প্রবাহ আটকে যায়। পরে নদীর পানি উপচে ভাটির দিকে বন্যা সৃষ্টি করে।

গোরখা জেলার জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্র কুমার মিশ্র বলেন, নদীর তীরবর্তী নিচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। বন্যার পানিতে কয়েকটি বাড়ি ও দুটি ঝুলন্ত সেতু ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও।

বন্যার ঝুঁকি বিবেচনায় গোরখা ছাড়াও তানাহুন, চিতওয়ান, পূর্ব নাওয়ালপারাসি ও পশ্চিম নাওয়ালপারাসি জেলার নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছে।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। কর্মকর্তারা হেলিকপ্টার থেকেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

বুধি গণ্ডকী নদী ত্রিশূলী নদীর একটি উপনদী। একই নদীব্যবস্থার আরেকটি উপনদীতে গত আগস্টে হিমবাহ ধসের ঘটনায় ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। ওই ঘটনায় ১ হাজার ৪৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং হাজারো মানুষ নিখোঁজ ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আগের ওই বিপর্যয়ের পর নতুন করে বন্যার ঘটনায় নদীতীরবর্তী জনপদগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিধসের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে অস্থায়ী জলাধার তৈরি হতে পারে। পরে সেই বাধা ভেঙে গেলে হঠাৎ বিপুল পানি নিচের দিকে নেমে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি করতে পারে।

নেপালি কর্তৃপক্ষের প্রধান অগ্রাধিকার এখন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করা এবং নদীর পানিপ্রবাহের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা।