‘গৃহবন্দি’ ধ্রুব রাঠি, বাড়ির বাইরে পুলিশ মোতায়েন

ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে কার্যত গৃহবন্দি করে রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তিনি বলেন, বাসার সামনে প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং বাইরে বের হলেই সাদা পোশাকের পুলিশ পেছন পেছন অনুসরণ করছে। এমনকি কোনো ধরনের বিক্ষোভে যোগ দিতে গেলে তাকে আটকের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

একটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ধ্রুব রাঠি জানান, সোমবার (১২ অক্টোবর) বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখী পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।

ধ্রুব রাঠি বলেন, আমি প্রতিবাদে যোগ দিতে চাই। কিন্তু আমার বাড়ির বাইরে প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। আমি যেখানেই যাই, তারা আমাকে অনুসরণ করেন। কোনো বিক্ষোভের কাছে গেলেই আমাকে সঙ্গে সঙ্গে আটক করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

তার আরও দাবি, তিন-চারটি গাড়িতে করেও পুলিশ তাকে অনুসরণ করছে। সম্ভাব্য ভিসা তদন্তের বিষয়টি নাকচ করে তিনি বলেন, আমি ভারতীয় নাগরিক। আমার ক্ষেত্রে ভিসার কোনো প্রশ্নই নেই।

এর আগে শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে ধ্রুব রাঠিকে তার বাড়ি থেকে আটক করেছিল পুলিশ। রোববার প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ওই ঘটনাকে ‘অপহরণ’ বলে অভিহিত করেন তিনি।

ভিডিওবার্তায় ধ্রুব রাঠি বলেন, শনিবার সকাল ৭টার দিকে তার বাড়ির বাইরে ৫০ জনের বেশি লোক জড়ো হন। তার মা দরজা খুললে সাধারণ পোশাকে থাকা কয়েকজন তাকে ধাক্কা দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করেন। এরপর তারা সরাসরি তার শোবার ঘরে চলে যান। তখন তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘুম থেকে ওঠার পর তাকে কথা বলা বা কিছু করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি জুতা পরার সময়টুকুও দেওয়া হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় তার মা চিৎকার করছিলেন।

ধ্রুব রাঠির অভিযোগ করেন, তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় তার নিজের ও তার বাবা-মায়ের ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে এক থানা থেকে অন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানায় আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তাকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি ফোন ব্যবহার করতেও দেওয়া হয়নি।

তিনি জানান, তাকে বারবার আশ্বস্ত করা হচ্ছিল এটি কোনো গ্রেপ্তার বা আটক নয় এবং শিগগিরই ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে দীর্ঘ ২২ থেকে ২৩ ঘণ্টা আটকে রাখার পর তিনি প্রশ্ন তোলেন এই ধরনের ঘটনাকে ‘অপহরণ’ ছাড়া আর কী বলা যেতে পারে?