ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে গেছে, কখনো হাল ছাড়েনি বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। তার ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যসহ পুরো বিশ্বের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করা এই সংঘাতের উত্তেজনা কমাতে ইসলামাবাদ শান্তির পথ বেছে নিয়েছিল এবং সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) কাতারের রাজধানী দোহায় আয়োজিত অষ্টম বৈশ্বিক নিরাপত্তা সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন নাকভি। ‘জোটের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এই সম্মেলনে শতাধিক দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নিচ্ছেন।
নাকভি বলেন, গত কয়েক মাস এই অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং গোটা বিশ্বের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করেছিল। এমন সংকটময় সময়ে পাকিস্তান শান্তির পথ বেছে নেয় এবং উত্তেজনা কমাতে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালায় বলে জানান তিনি।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় যুক্ত থাকার কথা তুলে ধরে নাকভি বলেন, এমন কিছু মুহূর্ত এসেছিল, যখন পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। কিন্তু তারপরও তারা হাল ছাড়েননি। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ ও শান্তি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তিনি একাধিকবার দেশটি সফর করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংঘাত প্রশমনে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরের ভূমিকাকেও বিশেষভাবে তুলে ধরেন নাকভি। তার ভাষায়, উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তানের প্রচেষ্টায় মুনির অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন।
গত আগস্টে আসিম মুনির নাকভিকে সঙ্গে নিয়ে ইরান সফর করেন। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই ওই সফর হয়েছিল। পরে সেপ্টেম্বরে নাকভিও আবার ইরান সফর করেন। তেহরান সে সময় সফরটিকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছিল।
দোহা সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ১৮ জুন স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের কথাও স্মরণ করেন নাকভি। ১৪ দফার এই সমঝোতা স্মারকে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে স্বাক্ষর করেছিল। এর লক্ষ্য ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ অবসানের জন্য একটি কাঠামো তৈরি করা।
নাকভি জানান, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের পর সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হয় লেক লুসার্ন শীর্ষ সম্মেলন। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় আয়োজিত ওই বৈঠকে আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে কাজ করা হয়। সম্মেলনে সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে এমন একটি দৃশ্য দেখেছিলেন, যা তিনি কখনো ভুলবেন না।
নাকভির বর্ণনা অনুযায়ী, কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি এবং আসিম মুনির একটানা ১৬ ঘণ্টারও বেশি সময় বিরতি ছাড়াই কাজ করেছিলেন। আলোচনার সেই পর্যায়ে কোনো ক্যামেরা ছিল না, ছিল না কোনো ঘোষণা। নাকভির ভাষায়, সেখানে ছিলেন শুধু দুজন মানুষ, যাঁরা আলোচনা ব্যর্থ হতে দিতে রাজি ছিলেন না।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মধ্যস্থতাকারী দুই দেশের একমাত্র লক্ষ্য ছিল সংঘাতের আরও বিস্তার ঠেকানো। তার বক্তব্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান ও কাতারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি আলোচনাকে ভেস্তে যেতে না দেওয়ার বিষয়ে দুই দেশের অঙ্গীকারের বিষয়টি উঠে এসেছে। সূত্র: ডন