আরাঘচি'র সঙ্গে বৈঠক করতে তেহরান পৌঁছেছেন ল্যাভরভ

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর প্রায় আট মাস পর প্রথমবারের মতো তেহরান সফরে গেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে সফরের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকদের আলোচনায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, পারস্য উপসাগরীয় সংকট এবং তেহরান-মস্কোর দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

তেহরানে পৌঁছানোর পর ল্যাভরভকে স্বাগত জানান আব্বাস আরাঘচি। এরপরপরই দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিক আলোচনায় বসেন। সফরকালে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রোববার (১৯ অক্টোবর) জানান, ল্যাভরভের এই সফর তেহরান ও মস্কোর মধ্যে চলমান পরামর্শের অংশ। দুই দেশের মধ্যে আগে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর বাস্তবায়ন এগিয়ে নেওয়াও এ সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি সর্বশেষ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ল্যাভরভ প্রথমে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর আরাঘচির সঙ্গে তাঁর বিস্তারিত ও গোপনীয় আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এসব আলোচনায় পারস্য উপসাগরের পরিস্থিতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবৈধ আগ্রাসনের ফলে সৃষ্ট তীব্র আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনের উপায় গুরুত্ব পাবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচ্যসূচিতে জ্বালানি, পরিবহন ও অর্থনৈতিক প্রকল্পও রয়েছে। এসব খাতে সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি আগে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও ল্যাভরভের এই সফরকে দেখা হচ্ছে। ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি মস্কোয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ২০ বছর মেয়াদি পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। একই বছরের অক্টোবরে চুক্তিটি বাস্তবায়নের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের বিরুদ্ধেও বারবার অবস্থান জানিয়েছে মস্কো। বড় পরিসরে যুদ্ধ আবার শুরু হওয়া ঠেকাতে রাশিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে বলে এর আগে মন্তব্য করেছিলেন ল্যাভরভ। তবে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি অক্টোবরের শুরুতে পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে জানিয়েছিলেন, উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় অবদান রাখতে প্রস্তুত মস্কো। এ ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পুতিনের সাম্প্রতিক টেলিফোনে কথোপকথনের পর তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং আলোচনায় অগ্রগতি আনতে রাশিয়া আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে বলে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের শীর্ষ বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসন শুরু হয়। হামলায় সড়ক, সেতু ও রেলপথসহ বেসামরিক অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে। এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ৪০ দিন পর যুদ্ধ থেমে যায় এবং জুনের মাঝামাঝি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিক রূপ পায়। এদিকে দ্বিতীয় দফার যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিক থেকেই হরমুজ প্রণালির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে ইরান।

এমন পরিস্থিতিতে ল্যাভরভের তেহরান সফরকে আঞ্চলিক সংকট নিয়ে দুই দেশের অবস্থান সমন্বয় এবং উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাব্য উদ্যোগের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে মধ্যস্থতা নিয়ে আলোচনা এগোবে কি না, তা নির্ভর করবে বৈঠকগুলোতে কী সিদ্ধান্ত আসে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেয় তার ওপর। সূত্র: প্রেস টিভি

এএস
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত