আমেরিকান ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ‘সুপার বোল’ কেবল একটি খেলার মাঠ নয়; বরং এটি হয়ে উঠেছে সামাজিক ও রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী মঞ্চ। এ বছর পুয়ের্তো রিকান সুপারস্টার ‘ব্যাড বানি’ (Bad Bunny)-এর হাফটাইম শো পারফরম্যান্সকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নতুন উন্মাদনা। তবে ইতিহাস বলছে, সুপার বোলের গ্যালারি বা হাফটাইম শো-তে শিল্পীদের রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়।
সিএনএন-এর এক বিশেষ তথ্যচিত্রে উঠে এসেছে, কীভাবে দশকের পর দশক ধরে বিশ্বখ্যাত তারকারা এই মঞ্চকে ব্যবহার করে বৈষম্য, যুদ্ধ এবং অধিকারের কথা বলে আসছেন।
পুয়ের্তো রিকো আমেরিকার একটি শাসিত অঞ্চল হলেও সেখানকার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। ইতিহাসবিদ জরেল মেলেন্দেজ-বাদিলোর মতে, ব্যাড বানি এই মঞ্চে থাকা মানেই এটি একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ। গত গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসেও তিনি আমেরিকার ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) বিরোধী স্লোগান প্রতিধ্বনিত করেছিলেন। এবারের সুপার বোলে তিনি পুয়ের্তো রিকোর মানুষের অধিকার ও সংগ্রামের কথা সুরের মাধ্যমে কতটা ফুটিয়ে তোলেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
ফিরে দেখা: সুপার বোলের আলোচিত কিছু প্রতিবাদের মুহূর্ত
১. জিম্মি সংকটের প্রতিফলন (১৯৮০):

১৯৮০ সালে যখন আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চরম উত্তেজনা এবং ৫২ জন আমেরিকান নাগরিক ইরানে জিম্মি ছিলেন, তখন অভিনেত্রী শেরিল ল্যাড জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার আগে নিজের পারফরম্যান্সটি সেই জিম্মিদের উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। এটি ছিল খেলার মাঠে জাতীয় সংকটের এক বিরল সংহতি।
২. হুইটনি হিউস্টনের কালজয়ী সেই গান (১৯৯১):

পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধ চলাকালীন হুইটনি হিউস্টনের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনা আজও মানুষের মনে গেঁথে আছে। যুদ্ধাতুর এক জাতিকে আশার আলো দেখাতে তার সেই গানটি ছিল এক পরম নিরাময়। পরবর্তীতে এই গানের বিক্রয়লব্ধ অর্থ উপসাগরীয় যুদ্ধের সেনাদের কল্যাণে দান করা হয়েছিল।
৩. গার্থ ব্রুকসের শর্ত (১৯৯৩):

কান্ট্রি মিউজিক তারকা গার্থ ব্রুকস শর্ত দিয়েছিলেন যে, তার ‘উই শ্যাল বি ফ্রি’ (We Shall Be Free) মিউজিক ভিডিওটি না দেখালে তিনি গাইবেন না। লস অ্যাঞ্জেলেস দাঙ্গার প্রতিক্রিয়ায় নির্মিত সেই ভিডিওটি প্রচার করতে এনবিসি (NBC) প্রথমে রাজি হয়নি। এর ফলে সুপার বোলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো খেলা শুরু হতে দেরি হয়েছিল, কারণ ব্রুকস পিচ থেকে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ব্রুকসেরই জয় হয়েছিল।
৪. বিয়ন্সের ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ বার্তা (২০১৬):

২০১৬ সালে বিয়ন্সের ‘ফরমেশন’ গানটি আলোচনার তুঙ্গে ছিল। তার নৃত্যশিল্পীদের পোশাক ছিল ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ দলের আদলে, যা কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার রক্ষার এক জোরালো ইঙ্গিত ছিল। রক্ষণশীলরা একে ‘আপত্তিকর’ বললেও বিশ্বজুড়ে এটি প্রশংসিত হয়েছিল।
৫. জেনিফার লোপেজ ও অভিবাসন নীতি (২০২০):

জেনিফার লোপেজ যখন পারফর্ম করছিলেন, তখন মাঠের ওপর খাঁচার মতো কাঠামো তৈরি করে তার ভেতর শিশুদের রাখা হয়েছিল। এটি ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে এক প্রতীকী প্রতিবাদ, যেখানে মেক্সিকো সীমান্তে অভিবাসী শিশুদের খাঁচায় আটকে রাখার কঠোর সমালোচনা করা হয়েছিল।
৬. এমিনেমের হাঁটু গেড়ে বসা (২০২২):

পুরো হাফটাইম শো’তে যখন হিপ-হপের জয়গান চলছিল, তখন র্যাপার এমিনেম তার পারফরম্যান্স শেষে এক হাঁটু গেড়ে বসেন। এটি ছিল এনএফএল তারকা কলিন কপারনিকের প্রতি শ্রদ্ধা, যিনি বর্ণবাদ ও পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে মাঠে হাঁটু গেড়ে বসে আন্দোলন শুরু করেছিলেন।
জেলহাজতে রাজপাল যাদব
