ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতা তীব্রতর হচ্ছে। টানা তৃতীয় দিনের মতো বুধবার (৪ মার্চ) এশিয়ার শেয়ার বাজারে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। অন্যদিকে, জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ নিয়ে উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েই চলেছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা গেছে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে। দেশটির প্রধান সূচক ‘কোসপি’ (Kospi) এক দিনেই ১০ শতাংশের বেশি পড়ে যাওয়ায় লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। আতঙ্কিত বিক্রি (Panic Selling) ঠেকাতে সেখানে ‘সার্কিট ব্রেকার’ পদ্ধতি কার্যকর করা হয়েছে, যা ২০২৪ সালের পর এই প্রথম। এছাড়া জাপানের নিক্কেই-২২৫ সূচক ৪ শতাংশ এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
ইউরোপের বাজারেও মন্দার ঢেউ লেগেছে। যুক্তরাজ্যের এফটিএসই-১০০ সূচক ২.৭৫ শতাংশ এবং জার্মানি ও ফ্রান্সের প্রধান সূচকগুলো ৩.৪ শতাংশের বেশি পয়েন্ট হারিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি-৫০০ সূচকও পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু করেছে।
বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম আজ আরও ১ শতাংশ বেড়েছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিবহনের লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় এই ঊর্ধ্বগতি। ইরান হুমকি দিয়েছে যে, এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজে তারা ‘আগুন ধরিয়ে দেবে’। ফলে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের ২০ শতাংশ যে পথ দিয়ে প্রবাহিত হয়, সেখানে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে প্রয়োজনে মার্কিন নৌবাহিনী ওই অঞ্চলে জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দেবে। এছাড়া যুদ্ধকালীন ঝুঁকি মোকাবিলায় জাহাজ কোম্পানিগুলোকে ‘খুবই সস্তা মূল্যে’ বিমা সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্পের লক্ষ্য হলো বিশ্বে জ্বালানির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের মতো রপ্তানি নির্ভর দেশগুলো এই ভূ-রাজনৈতিক ধাক্কায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জাহাজ চলাচল ও বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে শেয়ার বাজারে। পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের মন্দার কবলে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধের কারণে সাইবার হামলার শঙ্কা
২ ক্ষেপণাস্ত্র ও ৯ ড্রোন ভূপাতিত করলো সৌদি আরব
