ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্ব তেলের বাজারে ‘বিপর্যয়কর পরিণতি’ নেমে আসার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের সতর্ক করে বলেছেন, এই সংকট দ্রুত নিরসন না হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।
আরামকোর মতে, ১১ দিন আগে ইরানে মার্কিন হামলার পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথটি কার্যত বন্ধ রয়েছে। এর ফলে প্রতিদিন বিশ্ব বাজার থেকে প্রায় ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) ব্যারেল তেলের সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আমিন নাসের বলেন, ‘আমরা অতীতে অনেক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি, তবে এটি এই অঞ্চলের তেল ও গ্যাস শিল্পের দেখা এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় সংকট।’
আরামকো জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলেও তারা পাইপলাইনের মাধ্যমে তাদের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশ সরবরাহ সচল রাখার চেষ্টা করছে। লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে তারা এই তেল বিশ্ববাজারে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। এছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরে মজুত রাখা তেল ব্যবহার করেও গ্রাহকদের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা চলছে। তবে আমিন নাসের স্পষ্ট করেছেন যে, এই মজুত তেল দিয়ে দীর্ঘ সময় বাজার সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।
এদিকে, তেলের বাজারে এই চরম উত্তেজনার মধ্যেও মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ১৪ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮৫ ডলারে নেমে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য এই দাম কমাতে সাহায্য করেছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই যুদ্ধ ‘খুব শীঘ্রই’ শেষ হতে পারে। গত সপ্তাহে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৯ ডলারে পৌঁছেছিল, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ।
বাজার শান্ত রাখতে জি-৭ (G7) দেশগুলো আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA)-কে জরুরি তেল মজুত ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলেছে। আইইএ-এর সদস্য দেশগুলোর কাছে বর্তমানে ১২০ কোটি ব্যারেলের বেশি জরুরি তেলের মজুত রয়েছে। এছাড়া চীনের কাছেও প্রায় ১৪০ কোটি ব্যারেল তেলের মজুত আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আমিরাত উপকূলে জাহাজে হামলা, ড্রোন প্রতিহতের দাবি
