ইরান যুদ্ধের ১৯তম দিন

মিসাইল-ড্রোনের লড়াইয়ে বাড়লো অনলাইন ক্লাসের মেয়াদ 

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৬, ১১:১৬ এএম

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আজ ১৯তম দিনে পদার্পণ করেছে। সংঘাতের প্রভাব এখন কেবল যুদ্ধরত দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। সবশেষ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আকাশসীমা লক্ষ্য করে ইরান থেকে ছোড়া বড় ধরণের হামলা প্রতিহত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ধেয়ে আসা ১০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ৪৫টি ড্রোন (UAV) মাঝপথে বাধা দিয়ে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। দেশটিতে চলমান এই হামলাগুলোর ফলে কিছু বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানির খবরও নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ এবং নিহতদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আরব আমিরাত জুড়ে অনলাইনে ক্লাসের মেয়াদ আরও দুই সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। আগামী ২২ মার্চ স্প্রিং ব্রেক শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমান যুদ্ধাবস্থায় নার্সারি, স্কুল এবং উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইনে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। এর আগে গত ২ মার্চ থেকেই শিক্ষাখাতে এই বিশেষ ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছিল।

যুদ্ধের টানাপড়েনের মধ্যেও আরব আমিরাত তাদের পর্যটন ও বিমান চলাচল খাত সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ১ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ যাত্রী ইউএই বিমানবন্দরগুলো ব্যবহার করেছেন। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সহায়তায় বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন।

আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা ড. আনোয়ার গারগাস জানিয়েছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটে যোগ দিতে পারে ইউএই। তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখা আমাদের সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব।’ তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়নি।

যুদ্ধের আতঙ্ক ও উদ্বেগের মধ্যে থাকা নাগরিকদের সহায়তায় দুবাইয়ে ‘ইতমাইন’ (Itma'en) নামে একটি বিনামূল্যে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা হটলাইন চালু করা হয়েছে। এই সেবায় যুক্ত হওয়ার জন্য অভিজ্ঞ পেশাদারদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

DR/SN
আরও পড়ুন