পাল্টাপাল্টি শর্তে যুদ্ধের অবসান নিয়ে সংশয়

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৩ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হলেও দুই পক্ষের আকাশচুম্বী ও বিপরীতমুখী দাবির মুখে তা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার কথা বললেও তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ‘একতরফা’ কোনো শর্ত মানবে না। বর্তমানে বৈশ্বিক তেলের বাজারকে অস্থির করে তোলা ‘হরমুজ প্রণালী’কে ইরান আলোচনার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান মারফত ইরানকে ১৫ দফার একটি দাবিনামা পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন। যার মধ্যে প্রধান বিষয়গুলো হলো:

  • ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চিন্তা চিরতরে ত্যাগ করতে হবে।
  • ইরানের হাতে থাকা সব ‘উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম’ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে হবে।
  • তেহরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে কঠোর সীমা আরোপ করতে হবে।
  • মধ্যপ্রাচ্যে হিজবুল্লাহ ও হামাসের মতো প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সব ধরনের সমর্থন বন্ধ করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবিগুলোকে ‘অবাস্তব’ আখ্যা দিয়ে ইরান তাদের নিজস্ব শর্তাবলী প্রকাশ করেছে। তেহরানের প্রধান দাবিগুলো হলো:

  • ইরানের ওপর সব ধরণের আগ্রাসন ও হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে।
  • যুদ্ধ পুনরায় শুরু হবে না—এমন শক্তিশালি আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা দিতে হবে।
  • যুদ্ধের কারণে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য বিশাল অংকের ‘ক্ষতিপূরণ’ দিতে হবে।
  • সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে ইরান ‘হরমুজ প্রণালী’র ওপর তাদের পূর্ণ সার্বভৌমত্বের গ্যারান্টি চেয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের আগে ইরানের হাতে যা ছিল না, এখন তারা সেটি অর্জন করেছে—তা হলো হরমুজ প্রণালীর ওপর প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। এই পানিপথ দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়। ইরান এটি বন্ধ রাখায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে।

খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, এই সপ্তাহান্তেই পাকিস্তানে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করা হতে পারে। যেখানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অংশ নিতে পারেন। ইরান জ্যারেড কুশনার বা স্টিভ উইটকফের পরিবর্তে জেডি ভ্যান্সের সাথে কথা বলতে বেশি আগ্রহী বলে জানা গেছে। তবে নিরাপত্তার খাতিরে বৈঠকের স্থান পাকিস্তান থেকে তুরস্কেও সরিয়ে নেওয়া হতে পারে।

একদিকে আলোচনার প্রস্তাব থাকলেও অন্যদিকে রণপ্রস্তুতি আরও জোরদার করছে পেন্টাগন। যুক্তরাষ্ট্রের ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের আরও প্রায় ১,০০০ সৈন্য মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হচ্ছে। 

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘ইরান যদি বর্তমান বাস্তবতা মেনে না নেয়, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেখানে ‘নরক নামিয়ে আনতে’ (Unleash hell) প্রস্তুত।’

DR
আরও পড়ুন