জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে সম্মত ওপেক প্লাস

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৬ এএম

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কার্যত বন্ধ হরমুজ প্রণালী। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অন্যতম এই জলপথ খুললেই তেলের উৎপাদন বাড়াবে ওপেক প্লাস সংগঠনের সদস্য দেশগুলো। 

প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, সম্প্রতি বৈঠক করেছে ওপেক প্লাসের সদস্যরা। বৈঠকে মে মাসের জন্য তাদের তেল উৎপাদন কোটা দৈনিক দুই লাখ ছয় হাজার ব্যারেল বাড়াতে সম্মত হয়েছে। তবে, এই বৃদ্ধি মূলত কাগজে-কলমেই থাকবে। 

কারণ, ইরানের যুদ্ধের জেরে ওপেক প্লাসের সদস্যরা উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম নয়। যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অন্যতম তেল সরবরাহের রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ রয়েছে। এর জেরে গত ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে ওপেক প্লাসের সদস্য সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কুয়েত ও ইরাকের জ্বালানি রফতানি অনেকাংশে কমে গেছে। 

চলমান এই যুদ্ধের জেরে অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েলের দাম ১২০ ডলারেও গিয়েছে, যা ছিল সবশেষ চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর ফলে পরিবহন জ্বালানির দামও ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যা বিশ্বজুড়ে ভোক্তা ও ব্যবসার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

সরবরাহ ঠিক রাখতে সরকারগুলোকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করছে। ওপেক প্লাস সদস্যদের দৈনিক দুই লাখ ছয় হাজার ব্যারেল জ্বালানি উৎপাদন হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে ব্যাহত সরবরাহের দুই শতাংশেরও কম প্রতিনিধিত্ব করে। 

ওপেক প্লাস সূত্রগুলো জানিয়েছে, জলপথটি পুনরায় চালু হলে উৎপাদন বাড়ানোর প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয় এটি। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি এসপেক্টস এই বৃদ্ধিকে ‘তাত্ত্বিক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। 

প্রতিষ্ঠানটির মতে, যতক্ষণ পর্যন্ত প্রণালীতে সমস্যা থাকবে ততক্ষণ জ্বালানি উৎপাদন বাড়িয়ে লাভ হবে না। 

ওপেকের সাবেক কর্মকর্তা ও বর্তমানে রায়স্টার্ড এনার্জিতে ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করা জোর্জে লিয়ন বলেন, “বাস্তবে এটি বাজারে খুব অল্প পরিমাণ তেলই যোগ করে।” 

তিনি আরও বলেন, “হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানোর কোনও মানে নেই।” তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রবিবার অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল বৈঠকে জোটের আট সদস্য মে মাসের কোটা বৃদ্ধিতে সম্মত হয়েছে। তবে, তারা জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলো বাদেও রাশিয়াসহ অন্যান্য দেশও উৎপাদন বাড়াতে পারছে না। মস্কোর বিরুদ্ধে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধের সময় তৈরি হওয়া অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে তারা চাইলেও তেল উৎপাদন বাড়াতে পারছে না। উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে জ্বালানি অবকাঠামোগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছেন, যুদ্ধ থেমে গেলে এবং হরমুজ অবিলম্বে পুনরায় খোলা হলেও জ্বালানি উৎপাদনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে ও উৎপাদন লক্ষ্য অর্জন করতে কয়েক মাস লাগবে। রোববার আরেকটি ওপেক প্লাস প্যানেল, যা যৌথ মন্ত্রিসভা পর্যবেক্ষণ কমিটি নামে পরিচিত, জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। 

ওপেক প্লাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এসব স্থাপনাকে মেরামত করা ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ, যার ফলে সরবরাহের ওপর প্রভাব পড়ে। এদিকে, ইরাকে তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়াতে সায় দিয়েছে ইরান। 

রোববার শিপিং ডেটা দেখিয়েছে, ইরাকের কাঁচা তেল ভর্তি একটি ট্যাঙ্কার প্রণালী দিয়ে যাচ্ছে। তবে, বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ, ভবিষ্যতে আরও জাহাজ এই ঝুঁকি নেওয়ার জন্য এগুবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। রয়টার্স।

HN
আরও পড়ুন