যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেকার বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুদ্ধবিরতির বৈঠককে সামনে রেখে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) প্রায় ১০ হাজারের অধিক সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। খবর জেরুজালেম পোস্টের
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামাবাদের রেড জোন (সরকারি এলাকা), গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনসমূহ, কূটনৈতিক এলাকা এবং সকল প্রবেশ ও প্রস্থান পথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শহরজুড়ে পুলিশ ও রেঞ্জারসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে এবং সেনাবাহিনীর দ্রুত-প্রতিক্রিয়া বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রেড জোনের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং সেখানে রেঞ্জার্স ও পুলিশও মোতায়েন করা হবে। আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের রেড জোনের মধ্যে অবস্থিত একটি পাঁচতারা হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
দুই দেশের প্রতিনিধিরা যাতে নির্বিঘ্ন যাতায়াত করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে শহরজুড়ে বেশ কয়েকটি চেক পয়েন্ট বসানো হয়েছে। সেখানে ২৪ ঘণ্টা উপস্থিত থাকবে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী। গোটা শহরের যান চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। সরকারের তরফ থেকে ইসলামাবাদে আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে। তবে পাকিস্তানে এই বৈঠককে কেন্দ্র করে উদ্বিগ্ন খোদ মার্কিন নাগরিকদের একাংশ। হোয়াইট হাউসের সাবেক প্রেস সচিব আরি ফ্লেইশার বলেন, পাকিস্তান বিপজ্জনক একটি জায়গা। কারণ দেশটির সরকার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেই।
নিরাপত্তা সূত্র মতে, স্পেশাল ফোর্স ও টেকনিক্যাল টিম বহনকারী মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি সি-১৩০ বিমান বৃহস্পতিবার বিকেলে নূর খান বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করেছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠকস্থল সুরক্ষিত করতে এবং মার্কিন প্রতিনিধিদলের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করতে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস ও সিআইএ-র সদস্যরাও ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন।
পাকিস্তানের ফেডারেল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বৃহস্পতিবার মার্কিন রাষ্ট্রদূত ন্যাটালি বেকারের সঙ্গে এক বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ইসলামাবাদ আলোচনার আয়োজন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। নাকভি বলেন, সকল বিদেশি অতিথিকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা প্রদানের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং পাকিস্তানের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতি অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই বৈঠকে যুদ্ধবিরতি এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এদিকে, শুক্রবার ইরানের আকাশেও দেখা গেছে পাক যুদ্ধবিমান। ইরানের প্রতিনিধি দলকে নিরাপত্তা দিতেই যুদ্ধবিমানগুলো সেখানে পাঠানো হয়েছে। ইসলামাবাদ সফরকালে ইরানের প্রতিনিধিদলের উপর যাতে কোনও রকম হামলা না হয়, তা নিশ্চিত করবে পাকিস্তান। তাদের জন্য ঢাল হয়ে দাঁড়াবে পাক যুদ্ধবিমানগুলো।
আলোচনায় বসতে পাকিস্তানে পৌঁছেছে ইরানের প্রতিনিধি দল
'শত্রুপক্ষ আবার হামলা চালাবে এমন যুদ্ধবিরতি চায় না ইরান'
