ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নেতিভোটে কয়েক হাজার মৌমাছির এক বিশাল ঝাঁক আকস্মিক হানা দিয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) এই অস্বাভাবিক প্রাকৃতিক ঘটনায় শহরের জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। মৌমাছির এই বিশাল উপস্থিতি এতটাই আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে যে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে ভেতরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বাণিজ্যিক কেন্দ্রের ব্যস্ত রাস্তা থেকে শুরু করে ঘরবাড়ির বারান্দা—সবই যেন দখল করে নেয় মৌমাছির বিশাল বাহিনী। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর ছিল যে, মৌমাছির এই দল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ওপরও প্রভাব ফেলেছে। খবরে জানা গেছে, একটি সামরিক বিমানের ইঞ্জিনে মৌমাছির ঝাঁক ঢুকে পড়ায় এবং ডানায় আটকে থাকায় বিমানটির উড্ডয়ন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
ঘটনাটি অনলাইনে ব্যাপক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব এবং ধর্মীয় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে একে বাইবেলে বর্ণিত ‘দশটি প্লেগ’ বা মহামারির সঙ্গে তুলনা করছেন। বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নেটিজেনদের অনেকে একে ‘ঐশ্বরিক হস্তক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আলোচিত পডকাস্টার ক্যান্ডাস ওয়েন্স এই ঘটনার একটি ভিডিও শেয়ার করে রহস্যময় মন্তব্য করেছেন। বাইবেলের ইশাইয়া (Isaiah 7:18) অধ্যায়ের উদ্ধৃতি দিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করছেন যে, এটি একটি প্রাচীন ভবিষ্যদ্বাণীর প্রতিফলন।
'Ash Bae' সহ অনেক ইনফ্লুয়েন্সার এবং নেটিজেনরা দাবি করছেন, এটি কেবল কোনো প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, বরং যুদ্ধের এক পরোক্ষ প্রভাব। তাদের দাবি অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় কয়েকজন মৌমাছি পালনকারী নিহত হওয়া এবং কয়েক হাজার মৌচাক ধ্বংস হওয়ার ফলে বাস্তুচ্যুত মৌমাছিরা প্রতিশোধ নিতে বা আশ্রয়ের সন্ধানে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হানা দিয়েছে। ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ভিডিওতে এই ঘটনাকে প্রকৃতির ‘পাল্টা আঘাত’ হিসেবে চিত্রায়িত করা হচ্ছে।
মৌমাছির এই আকস্মিক উপস্থিতি নিয়ে যখন জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, তখন বিজ্ঞানী ও কীটপতঙ্গ বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। তাদের মতে, এটি কোনো পরিকল্পিত ‘হামলা’ নয়, বরং একটি বিরল কিন্তু স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া।
বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করেছেন যে, বসন্তকাল মৌমাছিদের বংশবিস্তারের প্রধান সময়। পর্যাপ্ত ফুলেল পরিবেশ ও অনুকূল তাপমাত্রার কারণে যখন কোনো মৌচাকে মৌমাছির সংখ্যা অতিরিক্ত বেড়ে যায়, তখন রানী মৌমাছি হাজার হাজার কর্মী মৌমাছি নিয়ে নতুন আশ্রয়ের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে। এই প্রক্রিয়াকে ‘সোয়ার্মিং’ বলা হয়। নেতিভোটের ঘটনায় মৌমাছিরা সম্ভবত তাদের নতুন বাড়ি খোঁজার পথেই শহরটিতে অবস্থান নিয়েছিল।
গবেষকদের মতে, বন্য পরিবেশে গাছপালা বা গুহার অভাব থাকায় মৌমাছিরা অনেক সময় শহরের দালানকোঠা বা দেয়ালের ফাটলকে নিরাপদ মনে করে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং ক্রমবর্ধমান উষ্ণতার কারণে মৌমাছিরা তাদের বসবাসের চিরচেনা ধরণ পরিবর্তন করছে। তারা দাবি করছেন, এটি প্রকৃতির একটি সংকেত হতে পারে- যা আমাদের পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা বা আবহাওয়া পরিবর্তনের দিকে আঙুল নির্দেশ করছে।
কীটতত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন, এই সোয়ার্মিং অবস্থায় মৌমাছিরা সাধারণত আক্রমণাত্মক থাকে না। তারা কেবল তাদের রানীকে ঘিরে একটি গুচ্ছ বা ক্লাস্টার তৈরি করে রাখে যতক্ষণ না স্কাউট মৌমাছিরা একটি উপযুক্ত স্থায়ী বাসা খুঁজে পায়। ফলে কোনোভাবে বিরক্ত বা আঘাতপ্রাপ্ত না হলে এগুলো মানুষের জন্য বড় কোনো বিপদের কারণ হয় না।
ইরানের জব্দকৃত সম্পদের পরিমাণ কত, কোথায় সেসব
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরমাণু চুক্তিতে বড় অগ্রগতির আভাস
ইসরায়েলকে জাতিসংঘ থেকে বরখাস্তের দাবি তুরস্কের স্পিকারের